"'নেকলেস' গল্পের মাদাম লোইসেলের মানসিকতা সুমনার মতো হলে গল্পের পরিণতি ভিন্ন হতে পারত।"- উক্তিটি যথার্থ।
ধের্য ও আত্মনিয়ন্ত্রণই মানুষকে বড় হওয়ার জন্য পথ তৈরি করে দেয়। এই দুটি গুণ মানুষকে সুখী করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, সুমনা দরিদ্র ঘরের মেধাবী শিক্ষার্থী। তার বান্ধবী টিনা উচ্চবিত্ত ঘরের মেয়ে। ধনী বান্ধবীর দামি জিনিসপত্র দেখে সুমনার মধ্যে হতাশা কাজ করে। কিন্তু সুমনা নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে, নিজেকে এই বলে প্রবোধ দেয়- অন্যের দামি জিনিসপত্রের চেয়ে নিজের স্বল্পমূল্যের জিনিসই বেশি মূল্যবান। অপরদিকে, 'নেকলেস' গল্পের মাদাম লোইসেল তার বিপরীত। তিনি দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়েছে এবং কেরানির সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে বলে সব সময় মনঃকষ্টে ভোগেন। তার মধ্যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও উচ্চাভিলাষ প্রবল। এসবের বশবর্তী হয়ে তিনি বড় বিপদে পড়েন, এক বান্ধবীর কাছ থেকে হীরের হার এনে অনুষ্ঠানে বেড়াতে যান। কিন্তু সেখানে তিনি সেটি হারিয়ে ফেলেন। এরপর সেটির মূল্য পরিশোধ করতে গিয়ে তিনি ও তার স্বামী অসম্ভব কষ্ট ভোগ করেন। তারা তাদের বাসা ছেড়ে দিয়ে তুলনামূলক নিচু ছাদের একটি বাসা ভাড়া নেন, মাদাম লোইসেল কাজের লোক বিদায় করে দিয়ে নিজেই ঘরের সব কাজ করতে শুরু করেন। সামগ্রিকভাব এভাবে দশ বছর কেটে যায়। তাদের স্বাস্থ্য ভেঙে যায়, মাদাম লোইসেলের সৌন্দর্যও নষ্ট হয়ে যায়। অথচ লোইসেল যদি উদ্দীপকের সুমনার মতো হতো তাহলের তাদের এত কষ্ট করতে হতো না। সুমনার মতো যদি তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন তবে তিনি সুখী হতে পারতেন। আর এতে করে গল্পের পরিণতিই হয়তো ভিন্নরকম হতে পারত।
"উদ্দীপকের সুমনা ও 'নেকলেস' গল্পে মাদাম লোইসেল চরিত্রের তুলনামূলক আলোচনায় বলা যায়, 'নেকলেস' গল্পের মাদাম লোইসেলের মানসিকতা সুমনার মতো হলে গল্পের পরিণতি ভিন্ন হতে পারত। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।