➤ "উচ্চাভিলাষ অনেক সময় ভীষণ বিপদ ডেকে আনে।"- মন্তব্যটি উদ্দীপক এবং 'নেকলেস' গল্পের আলোকে তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।
➤ সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা নিয়েই মানুষের জীবন। সংসারজীবনে বিভিন্ন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে মানুষকে বেঁচে থাকতে হয়। অর্থবিত্তের অধিকারীও সবাই হয় না। যার অর্থবিত্ত নেই, বিলাসী জীবনের জন্য তার অযথা কষ্ট পাওয়া উচিত নয়। নিজের যা আছে তার মধ্যে সন্তুষ্ট থাকার মধ্যে প্রকৃত সুখ নিহিত।
➤ 'নেকলেস' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র মাদাম লোইসেল আভিজাত্যবোধ ও কল্পনাবিলাসে আচ্ছন্ন ছিলেন। ধনী ও অভিজাত শ্রেণির সঙ্গে তুলনা করে নিজেকে অসহায় ভাবতেন এবং তা নিয়ে হতাশায় ভুগতেন। প্রথম জীবনে মাদাম লোইসেল উচ্চাভিলাষী হলেও নেকলেস হারানোর ঘটনা তাকে সেই উচ্চভিলাষী জীবনের আকাঙ্ক্ষা থেকে সরিয়ে এনে বাস্তব জীবনের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। হারানো নেকলেসের মতো আরেকটি কিনে ফেরত দিতে গিয়ে তাদের অনেক ঋণ হয়। সেই ঋণ শোধ করতে গিয়ে তাদের সংসারে চরম দারিদ্র্য নেমে আসে। এই বিষয়টিই উদ্দীপকের মধ্যে আলোকপাত করা হয়েছে।
➤ 'নেকলেস' গল্পের জীবনদর্শন হলো সাধ্যের অতিরিক্ত সাধ মাদাম লোইসেলকে অসুখী করেছে। যার কারণে তাকে দীর্ঘ দশ বছর কষ্ট করতে হয়েছে। যা তার উচ্চাভিলাষের ফল ছিল। উদ্দীপকের মধ্যেও বলা হয়েছে, উচ্চাভিলাষের পরিণাম কখনো ভালো হয় না। তাই বলা যায় যে, উচ্চাভিলাষ অনেক সময় বিপদ ডেকে আনে। উদ্দীপকে উচ্চাভিলাসের ক্ষতিকর দিকটিকে তুলে ধরা হয়েছে যা 'নেকলেস' গল্পের মৌল উপজীব্য বিষয়। এই কারণেই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি উভয় ক্ষেত্রেই তাৎপর্যপূর্ণ।
সারকথা: উদ্দীপকে উচ্চাভিলাসের ক্ষতিকর দিকটিকে তুলে ধরা হয়েছে যা 'নেকলেস' গল্পের মূল উপজীব্য বিষয়। এই কারণেই প্রশ্নোর মন্তব্যটি উভয় ক্ষেত্রেই তাৎপর্যপূর্ণ।