“উদ্দীপকের চেতনা এবং 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের চেতনা সামগ্রিক দৃষ্টিতে এক নয়।”- উক্তিটি যথার্থ।
আমাদের সমাজে বিভিন্ন ধরনের মানুষ রয়েছে। এদের মধ্যে কেউ আত্মকেন্দ্রিক, আবার কেউ মহাপ্রাণ আত্ম্যতাগী মানুষ। আত্মকেন্দ্রিকতা মানবজীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নয়। জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য পরার্থে আত্মনিবেদন করা। বৃক্ষ মানুষকে এই শিক্ষাই দেয়।
উদ্দীপক ও 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধ উভয় ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত স্বার্থচিন্তা বা আত্মকেন্দ্রিকতা পরিহার করে অন্যের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার কথা বলা হয়েছে। কারণ পরের সেবা ও উপকার করাই মহৎ জীবনের উদ্দেশ্য। এই বিষয়টি আলোচ্য প্রবন্ধের সামগ্রিক বিষয় নয়। এই প্রবন্ধে লেখক পরার্থে আত্মনিবেদনের বিবেকবোধসম্পন্ন মানুষ প্রত্যাশা, করেছেন। বৃক্ষের সাধনা, প্রাপ্তি ও সার্থকতার কথা বিবেচনা করে মানুষকে পরার্থে আত্মনিবেদনের কথা বলেছেন। প্রাবন্ধিক নদীর গতির সঙ্গে মানবজীবনের গতি এবং স্থূলবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের মধ্যে পার্থক্য দেখিয়েছেন যা উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি।
উদ্দীপকে পরের হিতে নিজেকে উৎসর্গ করার মধ্য দিয়ে জীবন সার্থক হয়ে ওঠার কথা বলা হয়েছে। আলোচ্য প্রবন্ধেও এই বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। তবে এই বিষয়টিই প্রবন্ধের একমাত্র আলোচ্য বিষয় নয়। এটি ছাড়াও মানবজীবনের গতি-প্রকৃতি, বিকাশ, আদর্শ ইত্যাদি কেমন হওয়া উচিত তা প্রবন্ধে বলা হয়েছে। প্রাবন্ধিক মানবজীবন বৃক্ষের আদর্শে গড়ে তুলতে বলেছেন। তিনি প্রত্যাশা করেছেন সূক্ষ্মবুদ্ধি সম্পন্ন উদার প্রকৃতির মানুষ। এ বিষয়গুলো উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ