➤ "উদ্দীপকে 'গন্তব্য কাবুল' রচনার একটি বিশেষ দিকের প্রতিফলন ঘটেছে মাত্র, পুরো বিষয় নয়।" মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ ভ্রমণের মাধ্যমে মানুষ বাস্তব জ্ঞান অর্জন করে। তারা বিভিন্ন দেশ, সেসব দেশের মানুষ, তাদের ভাষা-সংস্কৃতি, আচার-আচরণ, স্বভাব- বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। ভ্রমণপিপাসুরা নানা স্থানে গিয়ে সেখানকার প্রাকৃতিক বৈচিত্রা সম্পর্কেও জ্ঞান লাভ করে।
➤ 'গন্তব্য 'কাবুল' রচনায় লেখক হাওড়া স্টেশন থেকে কাবুল যাত্রার বিবরণ দিয়েছেন। যাত্রাপথে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে লেখকের পরিচয়, তাদের স্বভাব-বৈশিষ্ট্য তিনি রম্য-রসিকতার মাধ্যমে নির্দেশ করেছেন। যাত্রার শুরুতেই লেখক গাড়িতে উঠতে গেলে একজন ইংরেজ হাঁক দিয়ে বলেছিলেন, "এটা ইয়োরোপিয়ানদের জন্য।" এ কথার মাধ্যমে লেখক ব্রিটিশ শাসনের দুইশ বছরের অবস্থা আঁচ করতে পারেন। পরে সেই ফিরিঙ্গির সঙ্গে লেখকের শান্তিপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ যাত্রা শুরু হয়। এ সময় কথা বলার ভাষা ও ভাব বিনিময়ের বিষয়টি উদ্দীপকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➤ 'গন্তব্য কাবুল' রচনায় লেখক তুলনাত্মক ভাষাতত্ত্বের বইয়ে পড়া অনুস্বারের ব্যবহার সম্পর্কে জানিয়েছেন। তিনি এখানে বাংলা শব্দের সঙ্গে অনুম্বার যোগ করলে তা কীভাবে সংস্কৃত হয় সেই দিকটি নির্দেশ করেছেন। উদ্দীপকেও বাংলা ভাষায় অন্য ভাষার শব্দ মিশে গিয়ে নতুন শব্দ তৈরি করার বিষয়টি রয়েছে। এই দিকটি ছাড়াও রচনায় কাবুলের 'পথ-ঘাট, নদী, পোশাক, সমাজ গঠন ইত্যাদি বিষয় বর্ণিত হয়েছে। এসব বিষয় উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: উদ্দীপকে বাংলা ভাষা ব্যবহারের যে দিকটির কথা লেখক তুলে ধরেছেন । তা 'গন্তব্য কাবুল' রচনার অন্যতম একটি বিষয়মাত্র।