"মেনে নেওয়া এই জীবনে তার কোনো বিড়ম্বনা নেই'- রেবেকার এই জীবন সত্যই 'নেকলেস' গল্পের মূলভাব।”- মন্তব্যটি সম্পর্কে আমি একমত।
মানুষের জীবন আনন্দ-বেদনায় ঘেরা। জীবনে কখনো সুখ আবার কখনো দুঃখ এসে ভিড় করে। দুটোকেই গ্রহণ করতে হয়। মানুষ তার আশা বা প্রত্যাশা অনুযায়ী সব' পায় না। এজন্য সে যদি হতাশায় ডুবে থাকে তবে জীবনটা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। তাই মানুষের উচিত যা আছে তা নিয়েই সুখে থাকা, জীবনকে আরও সুন্দর ও আনন্দঘন করে তোলা।
উদ্দীপকের রেবেকা মনের মতো স্বামী-সংসার না পেলেও যা পেয়েছে সেটাকে ভাগ্য হিসেবে মেনে নিয়েছে। গৃহশিক্ষক স্বামীর, সামান্য আয়ে যতটা সম্ভব সুন্দরভাবে সবকিছু পরিচালনার চেষ্টা করেছে। মেনে নেওয়া তার এ জীবনে কোনো বিড়ম্বনা নেই। তার এই জীবন সত্য 'নেকলেস' গল্পের মাতিলদা লোইসেলের কষ্টকর জীবনসংগ্রামে টিকে থাকার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই গল্পের মূল সুর হিসেবেই তা এখানে উপস্থাপিত হয়েছে।
'নেকলেস' গল্পে দেখা যায় মাতিলদা লোইসেল ছিল উচ্চাভিলাষী ও বিলাসী। প্রত্যাশা অনুযায়ী স্বামী-সংসার না পেয়ে তার আক্ষেপের সীমা নেই। যার জন্য তাকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। ভুলের মাশুল দিতে দিতে জীবন থেকে দশটি বছর হারিয়ে গেছে। এর মাধ্যমে গল্পে দেখানো হয়েছে- যা পাওয়া যায় তাকে ভাগ্য বলে মেনে নিয়ে সুন্দর করে তুললে জীবন অনেক সুন্দর হয়। যেটা রেবেকার জীবনে সত্যি হয়ে দেখা দিয়েছে। 'নেকলেস' গল্পেও শেষে মাতিলদা লোইসেল এই জীবনকে মেনে নিয়েছে। এ কারণেই প্রশ্নোক্ত বক্তব্যের সঙ্গে আমি একমত।