পরোপকারী মনোভাবের দিক থেকে "উদ্দীপকের কবির চেতনা 'প্রতিদান' কবিতার কবির চেতনার সমান্তরাল" মন্তব্যটি যথার্থ।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি পরোপকারী মনোভাবের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছেন। কেননা ব্যক্তি যখন নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে অন্যের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করে তখনই ব্যক্তির প্রকৃত সুখ ও সার্থকতা অর্জিত হয়। মানুষে মানুষে পারস্পরিক প্রীতিময়. সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে মানবিকতার জয় ঘোষিত হয়।
উদ্দীপকে প্রকৃতির নানা উপাদানের পরার্থপরতার বিষয়টি উঠে এসেছে। উদ্দীপকের কবির মূল চেতনা হলো অপরের কল্যাণ সাধন একটি মানবিক গুণ। কারণ এ পৃথিবীতে মানুষ নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে আসেনি। সবার জন্য সবাই, প্রত্যেকে প্রত্যেকের জন্য। কবির এই পরার্থপরতার চেতনাটি 'প্রতিদান' কবিতার কবির চেতনারই সংহত রূপ। তিনি কবিতায় সর্বংসহা মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। কবি মনে করেন নিজের স্বার্থে নয়, পরার্থে বেঁচে থাকাই জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি প্রতিকূল অবস্থায়ও মানবের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। মানুষের কাছ থেকে আঘাত পেয়েও - মানুষকে বুকে জড়িয়ে ধরেছেন, যা তাঁর পরার্থপরতাকে নির্দেশ করে। এ বিষয়টি উদ্দীপকের প্রকৃতির নানা অনুষঙ্গের পরের জন্য বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যেও রয়েছে। এখানে কবির পরার্থপর মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়, যা আলোচ্য কবিতার কবির চেতনার নামান্তর। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।