পরার্থপরতার আদর্শ ধারণ করায় "উদ্দীপকটি চেতনাগত দিক থেকে 'প্রতিদান' কবিতার মূলভাবের প্রতিনিধিত্ব করে"- মন্তব্যটি যথার্থ।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি পরার্থপরতার আদর্শ তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করেন, ভালোবাসার চেয়ে বড় অন্য কোনো শক্তি নেই। এর মাধ্যমে পরম শত্রুকেও বন্ধুতে রূপান্তরিত করা যায়। তাই তিনি আত্মকেন্দ্রিকতা ও ক্ষুদ্র স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে পরম শত্রুকেও ভালোবাসা দিয়ে আপন করে নিতে চেয়েছেন।
উদ্দীপকের কবিতাংশে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থকে বলি দিয়ে অপরের কল্যাণের কথা ভাবতে বলা হয়েছে। তাঁর মতে, আত্মকেন্দ্রিকতা কখনো মানুষের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। তাই তিনি আমিত্বকে জলাঞ্জলি দিয়ে পরার্থে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি অপরের সুখ-দুঃখে নিজেকে বিলিয়ে দিতে 'বলেছেন। কেননা, তিনি এতেই প্রকৃত সুখ নিহিত বলে মনে করেন। উদ্দীপকের কবিতাংশে ফুটে ওঠা পরার্থপরতার এ দিকটি 'প্রতিদান' কবিতায়ও একইভাবে পরিলক্ষিত হয়।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি পরার্থপর মানসিকতার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি শত্রুতাকে ভালোবাসা দিয়ে জয় করতে চেয়েছেন। এ কারণে যে ব্যক্তি কবির ঘর ভেঙেছে বা যে তাঁকে ব্যথাহত করেছে তিনি তাকে ভালোবাসার ডোরে বাঁধতে চেয়েছেন। একইভাবে, উদ্দীপকের কবিতাংশেও কবি 'পরার্থপরতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে অপরের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। উদ্দীপকের কবিতাংশে ফুটে ওঠা এমন ভাবনা 'প্রতিদান' কবিতার কবির ভাবনার সমান্তরাল। এ দিক বিচারে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ অর্থবহ।