মূল ভাবার্থের দিক থেকে বলা যায় "একটি সুখী ও সুন্দর সমাজ গঠনে 'প্রতিদান' কবিতার ভাবার্থ ও উদ্দীপকের ভাবার্থের সমন্বয়সাধন অপরিহার্য" মন্তব্যটি যথার্থ।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি পৃথিবীকে আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে চেয়েছেন। সমাজসংসারে বিদ্যমান হিংসা-বিভেদ, হানাহানি দূর করে সুন্দর ও কল্যাণময় পৃথিবী গড়ে তুলতে হলে মানুষে মানুষে প্রীতিময় সম্পর্ক গড়ে তোলা অপরিহার্য।
উদ্দীপকে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর মানবিক গুণাবলির দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। তিনি মানুষের কাছে নির্যাতিত ও রক্তাক্ত হয়েও তাদের প্রতি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেননি। নানা রকম অত্যাচার সহ্য করেও তিনি তাঁর অনিষ্টকারীদের মঙ্গলের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেছেন।
উদ্দীপকের এই ভাবার্থ 'প্রতিদান' কবিতার মূলভাবেও প্রস্ফুটিত হয়ে উঠেছে। কবি বন্ধু ও শত্রু সবাইকে আপন করে নেওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছেন। যারা কবিকে কটু কথা বলেছে, তাঁর সঙ্গে নির্দয় ব্যবহার করেছে এবং তাঁর অনিষ্ট করেছে তিনি তাদের প্রতিদানে উপকার করে ভালোবাসা উপহার দিয়েছেন। কবি মনে করেন, বর্তমান নেতিবাচক সমাজব্যবস্থা ভালোবাসার মাধ্যমে বদলে দিয়ে একটি সুখী, সুন্দর ও প্রীতিময় সমাজ গঠন করতে হবে যা সমাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাই বলা যায়, একটি সুখী ও সুন্দর সমাজ গঠনে প্রিতিদান' কবিতার ভাবার্থ ও উদ্দীপকের ভাবার্থের সমন্বয়সাধন অপরিহার্য।