➤ "উদ্দীপকের বকুলের মতো তারুণ্যশক্তির জয়গানই 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম গেয়েছেন।" মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ তারুণ্য মানেই হচ্ছে পুরনোকে, মিথ্যাকে, জরাজীর্ণতাকে, কুসংস্কারকে, অন্যায়-অত্যাচারকে অসীম সাহস, দুর্বার উদ্দীপনা নিয়ে মোকাবিলা করা। আর তারুণ্যের প্রতীক তরুণরাই এসব করতে পারে।
➤ 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে লেখক তারুণ্যশক্তির জয়গান গেয়েছেন। তাঁর মতে- "তরুণ নামের জয়মুকুট শুধু তারই যার শক্তি অপরিমাণ, গতিবেগ ঝঞ্ঝার ন্যায়, ক্লান্তিহীন যার উৎসাহ, বিরাট যার ঔদার্য, অফুরন্ত যার প্রাণ, অটল যার সাধনা, মৃত্যু যার মুঠিতলে।" তিনি আরও বলেছেন, যৌবন এটিই, যখন শব বহন করে সে যায় শ্মশানঘাটে, গোরস্থানে। তারুণ্যশক্তি অন্যায়ের প্রতিবাদ যেমন করে তেমনই মানুষের সেবায় এগিয়ে আসে নিঃস্বার্থভাবে। তারা অনাহারে থেকে দুর্ভিক্ষ-বন্যা-পীড়িতদের মুখে খাবার তুলে দেয়। তারা রোগীর পরিচর্যা করে, পথে পথে গান গেয়ে দুর্দশাগ্রস্তদের জন্য ভিক্ষা করে, দুর্বলের পাশে বল হয়ে দাঁড়ায়, হতাশের বুকে আশা জাগায়, অন্যায় দেখলে মৃত্যুকে তুচ্ছ করে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
➤ 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে লেখক তারুণ্যশক্তির জয়গান গাইতে গিয়ে তারুণ্যের যেসব বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছেন সেগুলোর অনেকটাই উদ্দীপকের বকুলের চরিত্রে দেখা যায়। তার মধ্যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ যেমন প্রকাশ পেয়েছে তেমনি মানবিকতাও প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বকুলের মতো তারুণ্যশক্তির জয়গানই 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম গেয়েছেন।
সারকথা: 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে তাবুণ্যশক্তির। যে জয়গান তার অনেকটাই উদ্দীপকের বকুলের চরিত্রে রয়েছে।