➤ 'শিক্ষা ও সাহিত্যের উদ্দেশ্য ভিন্নধর্মী'- বক্তব্যটি উপরের অনুচ্ছেদে অনেকখানি প্রতিফলিত হয়েছে বলে আমি মনে করি।
➤ শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মাঝে বিশ্বের খবর পৌছানো। অন্যের মনের অভাব দূর করতেই শিক্ষকের যাতে শিক্ষা জন্মলাভ 'করেছে। কিন্তু নিজের মনের পরিপূর্ণতা থেকেই সাহিত্যিক তার সাহিত্য সৃষ্টি করেন। সাহিত্যের জগৎ নিছক আনন্দের জগৎ।
➤ সাহিত্য হচ্ছে আনন্দের উপকরণ। কাউকে শিক্ষা দান করা এটির উদ্দেশ্য নয়। কাজেই শিক্ষা ও সাহিত্যের ধর্ম-কর্ম যে এক নয়- এই সত্যটি স্পষ্ট হওয়া দরকার। প্রথমত, শিক্ষা অনিচ্ছা সত্ত্বেও গলাধঃকরণ করতে মানুষ বাধ্য হয়, পক্ষান্তরে কাব্যরস লোকে সানন্দে পান করে। কেননা শাস্ত্রমতে সেই রস অমৃত। দ্বিতীয়ত, শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মনকে বিশ্বের খবর জানানো, সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো। তৃতীয়ত, অপরের মনের অভাব পূর্ণ করার উদ্দেশ্যেই শিক্ষকের হায়ে শিক্ষা জন্মলাভ করেছে, কিন্তু কবির নিজের মনের পরিপূর্ণতা থেকেই সৃষ্টি হয় সাহিত্য। তাই প্রমথ চৌধুরী বলেছেন, সাহিতোর উদ্দেশ্য আনন্দদান করা, শিক্ষা দান করা নয়। অনুচ্ছেদেও বক্তব্যটি অনেকখানি প্রতিফলিত হয়েছে।
➤ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, জ্ঞানের কথা জেনে মনে আনন্দ জন্মে না। সূর্য পূর্বাকাশে ওঠে- এই তথ্য আমাদের মন টানে না। কিছ সূর্যোদয়ে যে সৌন্দর্য ও দেখার আনন্দ আছে তা সৃষ্টিকাল থেকে আজও বিদ্যমান। এই সৌন্দর্য ও আনন্দানুভূতি পাঠকহৃদয়ে জাগিয়ে তোলাই সাহিত্যের কাজ। কাজেই শিক্ষা ও সাহিত্যের উদ্দেশ্য যে ভিন্নধর্মী তা অনুচ্ছেদে অনেকখানি প্রতিফলিত হয়েছে।
সারকথা: শিক্ষা হচ্ছে জ্ঞানের ব্যাপার আর সাহিত্যের উদ্দেশ্য হচ্ছে আনন্দদান করা, শিক্ষা দান করা নয়। কাজেই 'শিক্ষা ও সাহিত্যের উদ্বেগ ভিন্নধর্মী' এই বক্তব্যটি উপরের অনুচ্ছেদে অনেকখানি প্রতিফলিত হয়েছে।