➤ "সাহিত্যের যারা সত্যিকারের সাধক, প্রকৃত বিজয়মাল্য তাঁদের গলায়ই শোভা পায়, বেশধারী সাহিত্যিকদের গলায় নয়।" মন্তব্যটি 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের মূলভাবেরই নামান্তর মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ সাহিত্যের কাজ হলো ব্যক্তিমনের সঙ্গে বিশ্ব জগৎকে সম্পৃক্ত করা। সাহিত্য তার আবেদন তখনই হারায় যখন সেখানে। সাহিত্যিকের উদ্দেশ্য যুক্ত হয়। সাহিত্য তখনই প্রকৃত সাহিত্য হয়ে ওঠে যখন তা মনের আনন্দের জন্য রচিত হয়।
➤ উদ্দীপকে বর্তমান যুগের বেশধারী নব্য সাহিত্যিকদের পরিচয় পাওয়া যায়। এসব নব্য সাহিত্যিকের আগমনের কারণ হলো নাম ফুটিয়ে তোলা। সাহিত্যকে না বুঝে, সাহিত্যের মর্ম অনুধাবন না করে, তারা সস্তা দরের ভাব দ্বারা দু-এক ছত্র লিখেই তা প্রকাশ করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। প্রকাশিত বই বগলে নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়ে নিজের নামের পূর্বে 'সাহিত্যিক' পদবি প্রচার করার জন্য।
➤ 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে সাহিত্যিকদের প্রকৃত পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। সাহিত্য হচ্ছে মনের নিঃসৃত কথামালার সুরম্য গাঁথুনি। মনের আনন্দেই তা ফুটে ওঠে কলমের কালিতে। যাঁরা সাহিত্যের অঙ্গনে খেলা করার সৃজনীশক্তি ও সাহস ধারণ করেন, তাঁদের সাহিত্য মানুষের হৃদয়ে স্পর্শ করে আলতোভাবে। তাঁরাই পায় শত প্রশংসার বাণী। কিন্তু যারা প্রশংসার জন্যই সাহিত্য রচনার বৃথা আস্ফালন করে, হাততালি তাদের ভাগ্যে না জুটলেও দুর্নাম জুটতে সময় লাগে না। উদ্দীপকের বক্তব্যও যেন এই বক্তব্যেরই প্রতিচ্ছবি। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: উদ্দীপক ও 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের নিরিখে বলা যায় যে, যারা সাহিত্যের প্রকৃত পূজারি, তাদের গলাতেই সম্মানের জয়মাল্য ওঠে। আর যারা জয়মাল্য ও হাততালির লোভে সাহিত্যের চাদর ধরে টানে, তারা না পায় সম্মান, নাপায় মানুষের হাততালি।