➤ "উদ্দীপকের করিম সাহেবের সৃষ্ট সাহিত্য 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধ অনুসারে উৎকৃষ্ট সাহিত্যজগৎ থেকে ছিটকে পড়েছে।" মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ উৎকৃষ্ট সাহিত্য থেকে ধনী-গরিব, ব্রাহ্মণ-শূদ্র সকলেই আনন্দ লাভ করতে পারে। সাহিত্য কোনো বিশেষ শ্রেণির মনস্কৃষ্টির জন্য রচিত হয় না, হওয়া উচিতও নয়। তাহলে সাহিত্য নিজ ধর্ম থেকে ছিটকে পড়বে। সাহিত্যের কাজ শুধুই আনন্দ দান করা, কারও মনোরঞ্জন করা নয়।
➤ উদ্দীপকের করিম সাহেব লেখালেখি করেন। তাঁর রচিত রচনাগুলো সমাজের এক নির্দিষ্ট শ্রেণির মনস্তুটির জন্য রচিত। তাদের বাহবা পাওয়া এবং তার মাধ্যমে অর্থ অর্জন করা করিম সাহেবের লক্ষ্য। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধ অনুসারে আনন্দ দান ছাড়া সাহিত্যের অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে না। যদি থাকে তবে সেটা সাহিত্যের পর্যায়ে পড়বে না। ধর্মচ্যুত হয়ে পরিণত হবে জুয়াখেলায়।
➤ খেলার আনন্দ যেমন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়, তেমনই সাহিত্যও কোনো উদ্দেশ্যে রচিত হলে তার নিজস্ব গতিপথ হারাবে। উদ্দীপকের করিম সাহেব সমাজের বিশেষ একশ্রেণির জন্য লেখেন। এজন্য তাঁর লেখা সাহিত্যের পর্যায় পড়ে না। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বলেছেন, সাহিত্য জগৎ নির্মল আনন্দের জগৎ। এদিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, সাহিত্যের একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আনন্দ দান করা, অন্য কিছুই নয়। কিন্তু উদ্দীপকের করিম সাহেব অর্থ উপার্জনের এবং মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে সাহিত্য রচনা করেন, এজন্য তাঁর সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত।