➤ "উদ্দীপকটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করে না" মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ বাংলার প্রকৃতি অপরূপ সৌন্দর্যের আধার। ঋতু পরিক্রমায় ছয়টি ঋতুর আনাগোনায় এ দেশের প্রকৃতি মোহনীয় রূপ ধারণ করে। একেক ঋতু একেক রূপ নিয়ে আসে এ দেশে। প্রকৃতির পরিবর্তনে মানুষের মনেও বিচিত্র অনুভূতি সৃষ্টি হয়। প্রকৃতি ও মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং ঋতুচক্রের আবর্তে গড়ে ওঠা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কবিরা তাঁদের শিল্পনৈপুণ্যে অঙ্কন করেছেন বারবার।
➤ উদ্দীপকে বাংলার প্রকৃতির অপরূপ শোভা তুলে এনেছেন কবি। মুগ্ধ হয়েছেন বাংলার রূপে। বারবার ফিরে আসতে চেয়েছেন তার প্রিয় প্রকৃতির সান্নিধ্যে। প্রকৃতিমুগ্ধ কবির প্রকৃতি বর্ণনায় এখানে হেমন্ত ঋতুর উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। হেমন্তকালীন নবান্ন উৎসব আর কুয়াশার রূপচিত্র অঙ্কন করে কবি সামান্য পরিসরেই হেমন্তকে ফুটিয়ে তুলেছেন তাঁর অসাধারণ পারঙ্গমতায়। 'ঋতু বর্ণন' কবিতায়ও হেমন্ত প্রকৃতির বর্ণনা এসেছে। তবে কবিতাটিতে অন্যান্য ঋতু আরও বিস্তৃত রূপে বিধৃত হয়েছে। পাশাপাশি এসেছে মানবমনের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্কের দিকও।
➤ 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি আলাওল বাংলার প্রকৃতিতে আবির্ভূত ছয়টি ঋতুর বর্ণনা করেছেন। বর্ণনার মধ্য দিয়ে তিনি প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্য উপস্থাপন করেছেন। এ দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে কবি মুগ্ধ হয়েছেন। যুগে যুগে অনেকেই হয়েছেন মুগ্ধ। বসন্ত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত ও শীত কোনোটিরই রূপমাধুর্যের কমতি নেই। একেক ঋতুর একেক রূপ বাংলার প্রকৃতিকে বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে। এই বৈচিত্র্য মানবমনেও বিচিত্র অনুভূতি সৃষ্টি করে। প্রিয়জনের সান্নিধ্যে সুখময় সময় অতিবাহিত করতে চায়। প্রকৃতিই তাদের মধ্যে এ ধরনের অনুভূতি জাগ্রত করে। প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্য ও মানবমনে এর প্রভাবের দিকগুলো উদ্দীপকে স্থানলাভ করেনি। এখানে কেবল বাংলার প্রকৃতির হেমন্ত ঋতুর প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়েছে। এ দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় বাংলার ষড়ঋতুর রূপসৌন্দর্য ও মানবমনে এগুলোর প্রভাব সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। উদ্দীপকে কেবল হেমন্ত ঋতুর প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়েছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।