➤ উদ্দীপকে শিশিরের পিতৃ-পরিবারে নারীর প্রতি যে মনোভাবের চিত্র দেখা যায়, তাতে উনিশ শতকের গোড়ার দিকের সমাজজীবনে নারীর অবস্থানের কথা মনে করিয়ে দেয়।
➤ পূর্বে নারীরা ছিল পর্দাপ্রথার কঠিন বেড়াজালে অবরুদ্ধ। পুরুষশাসিত সমাজে নারীর মানবিক আকাঙ্ক্ষা ছিল পদদলিত। তাদের শিক্ষিত হওয়ার কোন সুযোগ দেওয়া হতো না।
➤ সমাজজীবনের সর্বক্ষেত্রে নারী, বিশেষ করে মুসলমান নারীসমাজের পশ্চাৎপদতা, দুর্বিষহ জীবন ও অধিকারহীনতাকে দেখা হয়েছে পুরুষের নিদারুণ স্বার্থপরতা, আধিপত্যকামী মানসিকতার প্রেক্ষাপটে। 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের লেখকও রক্ষণশীলতার অজুহাতে পিত- পরিবারে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষালাভ থেকে বঞ্চিত হন। উদ্দীপকে শিশিরের জীবনেও সেই একই ঘটনা লক্ষণীয়। মূলত মা-বাবার অসচেতনতার কারণেই রোকেয়া ও শিশিরে মতো অসংখ্য নারীকে পিতৃ-পরিবারে শিক্ষালাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হয় এবং কর্মক্ষেত্রে তাদেরকে পিছিয়ে পড়তে হয়। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে সে বিষয়েই আলোকপাত করেছেন।
সারকথা: 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে উনিশ শতকে পিত- -পরিবারে নারীর শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়া সম্পর্কে জানা যায়। অপরদিকে উদ্দীপকে বর্ণিত শিশিরের ঘটনাটি এই সময়ে হলেও পিতৃ-পরিবারে কন্যাসন্তান হিসেবে তার অবস্থানও সেই প্রাচীনকালের মতোই।