➤ 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের মূলভাবের সঙ্গে উদ্দীপকে বর্ণিত বক্তব্যের সঙ্গে যথেষ্ট লক্ষণীয়।
➤ সমাজের নানা বেড়াজালে নারীরা বন্দি। নারীদের প্রতি পুরুষদের দৌরাত্ম্য তাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে প্রধান বাধা। ধর্ম, সমাজ, দায়িত্ব নানা জালে নারীদের এমনভাবে বেঁধে রাখা হয়েছে যে তারা নিজস্বতা হারিয়েছে।
➤ 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে বেগম রোকেয়া যুক্তিসহকারে দেখিয়েছেন যে, সমাজ পূর্ণ ও স্বাভাবিক গতিতে অগ্রসর হতে পারছে না। তার কারণ পরিবার ও সমাজজীবনের অপরিহার্য অর্ধেক শক্তি নারীসমাজের দুর্বল ও অবনত অবস্থা। আর এ জন্য তিনি পুরুষসমাজের দৃষ্টিভঙ্গির সংকীর্ণতাকে দায়ী করেছেন। সমাজে ও গৃহে নারী তার অধিকার হারাচ্ছে। উদ্দীপকে নারীকে রান্নাঘরের সীমার মধ্যে বাইশ বছর ধরে আটকে রাখা হয়েছে, তার স্বাধীনতাকে হরণ করা হয়েছে। তাকে স্বাধীন ও স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদেরকে জাগিয়ে তোলার বিভিন্ন দিক আছে, সেগুলো 'অর্ধাঙ্গী' গল্পের লেখক নানাভাবে প্রকাশ করেছেন।
➤ পুরুষশাসিত এ সমাজ বহুকাল ধরেই নারীকে বাস্তবিক শিক্ষা-দীক্ষা, বাইরের আলো-বাতাস ও জ্ঞানের অনুশীলন থেকে বঞ্চিত করে রেখেছিল। তারা বন্ধ কুটিরে সেবা-দাসীরূপে নারীকে অবরোধ করে রেখেছিল। ধর্মের দোহাই দিয়ে নারীদের তারা তাদের ইচ্ছামতো ব্যবহার করত। দীর্ঘকালের প্রথাসর্বস্ব এ অচলায়তনে বন্দি থাকায় নারীহৃদয়ের সৃষ্টিশীল সম্ভাবনাগুলো নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে পর্দার আড়াল থেকে নারী বেরিয়ে আসতে পারলেও অনেক ক্ষেত্রে মানসিক দিক দিয়ে নারীদের মুক্তি এখনও অর্জিত হয়নি। উদ্দীপকের নারীটির অবস্থা ও জীবন এ ধরনের নিয়মের মধ্যে বাঁধা পড়ে আছে। যে বাঁধা পড়ার কথা প্রাবন্ধিক 'অর্থালী' প্রবন্ধেও বলেছেন। এই বিবেচনায় 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের মূলভাবের সঙ্গে উদ্দীপকে বর্ণিত বক্তব্যের অনেক সংগতি লক্ষণীয়।
সারকথা: 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে উনিশ শতকের শেষ ও বিশ শতকের গোড়ায় ভারতবর্ষে পুরুষশাসিত সমাজজীবনের সব ক্ষেত্রে নারী, বিশেষ করে মুসলমান নারীসমাজের পশ্চাৎপদতা, দুর্বহ জীবন ও অধিকারহীনতাকে দেখা হয়েছে পুরুষের নিদারুণ স্বার্থপরতা ও আধিপত্যকামী মানসিকতার প্রেক্ষাপটে। উদ্দীপকের নারীর মধ্যেও এ বিষয়টি লক্ষণীয়।