➤ উদ্দীপক ও 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের আলোকে বাঙালি মুসলিম নারীর পারিবারিক বঞ্চনার যে চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে তা আমার দৃষ্টিতে বড় বৈষম্যপূর্ণ, মর্মন্তুদ ও করুণ।
➤ বাঙালি মুসলিম পরিবারের ধারণা, অবলা বলে রন্ধন কাজ ও সন্তান জন্মদান ছাড়া নারীর আর কিছুই করার নেই। আর পুরুষ সবল বলে সবকিছু করার অধিকারী। এই মিথ্যাকে পুঁজি করেই পুরুষ শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার এবং নারীরাও অন্ধভাবে পুরুষের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নেয়।
➤ 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে বলা হয়েছে, 'মহম্মদীয় আইনে' দেখা যায় যে, পৈতৃক সম্পত্তিতে কন্যা পুত্রের অর্ধেক পাবে। কিন্তু এ নিয়মটি পুস্তকেই সীমাবন্ধ। কার্যত কন্যার ভাগে কিছুই থাকে না। উদ্দীপকের মুসলিম পরিারে নারীর এমনই বঞ্চনার নানা চিত্র 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে দেখা যায়। উদ্দীপকে দেখা যায়, হুমায়ূন কবির সাহেবের মৃত্যুর পর তাঁর দুই পুত্র পিতার দোতলা বাড়ি এবং সহায়-সম্পদ সমান দুই ভাগে ভাগ করে নেন। তাদের একমাত্র বোনকে পৈতৃক সম্পদের কিছুই দেওয়া হয় না। কেবল দুই ভাই তাকে স্বামী-সন্তানসহ দাওয়াত করে খাওয়ায় এবং কিছু উপহার দেয়।
➤ মুসলিম সমাজের পারিবারিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বিধিব্যবস্থা নারীদের পুরুষের অবস্থা থেকে অনেক ক্ষেত্রে পৃথক ও বঞ্চিত করে রেখেছে। কেননা পুরুষকে যেখানে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হচ্ছে নারীকে সেখানে শুধু মক্তবে আরবি শিক্ষা, ঘরে বসেই শিশুশিক্ষা, রান্নাবান্না ও সংসার চালানোর শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। পুরুষের বিদ্যার গতির সীমা নেই, স্ত্রীদের বিদ্যার দৌড় সচরাচর 'বোধোদয়' পর্যন্ত। এছাড়াও সন্তানের প্রতি পিতার স্নেহ, যত্ন ইত্যাদি অপার্থিব সম্পত্তির ক্ষেত্রেও মুসলিম পারিবারিক জীবনে কন্যা অপেক্ষা পুত্রের প্রতি পক্ষপাতিত্বের মাত্রা বেশি দেখা যায়। •
সারকথা: বাঙালি মুসলিম নারীর পারিবারিক বঞ্চনার চিত্র বড় বৈষম্যপূর্ণ, মর্মন্ত্রণ ও করণ, যা উদ্দীপক ও প্রবন্ধ উত্তর জায়গায়ই ফুটে উঠেছে।