➤ "উদ্দীপক ও 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের লেখকের চেতনা ভাবগত দিক থেকে একই।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ মানুষ একতাবদ্ধ হয়ে বাস করে। মানুষের এই একতাবদ্ধ হয়ে বাস করার অন্যতম কারণ হলো নিজ নিজ চাহিদার পূরণ ঘটিয়ে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকা। পেশাগত দিক থেকে এক পেশার মানুষ অন্য পেশার মানুষের কাছে সাহায্যপ্রার্থী। একইভাবে পুরুষ ও নারী একে অপরের কাছে সাহায্যপ্রার্থী। বস্তুত পৃথিবীই রচিত হয়েছে নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রয়াসে।
➤ উদ্দীপকে নারীকে পুরুষের সমকক্ষ হিসেবে দেখানো হয়েছে। মূলত নারী বা পুরুষ হিসেবে লিঙ্গগত পার্থক্য থাকলেও সবাই কিন্তু মানুষ। মানুষ হলো পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণী। পুরুষের যেরূপ মেধা, যোগ্যতা, শক্তি রয়েছে, নারীরও তেমনই মেধা, যোগ্যতা আর শক্তি রয়েছে। নারী শারীরিক কাঠামোর কারণে পুরুষের চেয়ে কম শক্তি বহন করে। কিন্তু পৃথিবীতে নারী-পুরুষের প্রয়োজনীয়তা সমান, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
➤ 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের লেখকও অনুরূপ দৃষ্টিভঙ্গি নানা যুক্তি ও দৃষ্টান্তসহ তুলে ধরেছেন। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন আলোচা প্রবন্ধে নারীর সামাজিক অবস্থান এবং এই দুর্ভোগময় অবস্থা থেকে নারীকে উত্তরণের প্রয়াস চালিয়েছেন। কারণ সমাজ, সংসার বা রাষ্ট্রের উন্নতিতে নারীর অংশগ্রহণ অপরিহার্য। উদ্দীপকেও একই মনোভাব প্রকাশের মাধ্যমে লেখক বলেছেন যে- নারী-পুরুষের পারস্পরিক প্রয়োজনীয়তা চিরন্তন। এই বিবেচনায় বলা যায়, উদ্দীপক ও 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের লেখকের চেতনা ভাবগত দিক থেকে একই। সুতরাং মন্ত্রব্যটি যথার্থ।
সারকথা: নারীকে পুরুষের সমকক্ষ হিসেবে উপস্থাপনের মাধ্যমে 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের লেখক যে মনোভাবের পরিচয় দিয়েছেন, উদ্দীপকের লেখকও নারী-পুরুষের পারস্পরিক প্রয়োজনীয়তা চিরন্তন বলে একই মনোভাবের পরিচয় প্রদান করেছেন।