"বিয়া হইয়া গেলে জামাই যেইভাবে বলে সেইভাবেই চলবো।" 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের আলোকে চাষির উপর্যুক্ত উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: ➤ "বিয়া হইয়া গেলে জামাই যেইভাবে বলে সেইভাবেই চলবো।"- 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের আলোকে উদ্দীপকের চাষির উপর্যুক্ত উক্তিতে চরম পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা ও অজ্ঞতা ফুটে উঠেছে। ➤ নারীরা অবলা জাতি, পুরুষের ভোগের সামগ্রী, সন্তান জন্মদানকারিণী ও সংসারের ভারবাহিনী হিসেবে পুরুষশাসিত সমাজ কালে কালে, যুগে যুগে মনে করে এসেছে। নারীরা প্রকৃতিগতভাবে অন্যের ঘরনি। তাই এদের পিত্রালয়ে জ্ঞানী-গুণী করার দরকার নেই। স্বামীর ইচ্ছামতো নিজকে গড়ে তোলাই নারীর কাজ ও আদর্শ হওয়া উচিত বলে মনে করা হতো। ➤ 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধেও লেখক বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করে দেখিয়েছেন, তৎকালীন নারীরা অবলা বলে তাদেরকে অবহেলা ও অবজ্ঞা করা হতো। উদ্দীপকে একজন শিক্ষিত ভদ্রলোক ও একজন অশিক্ষিত চাষির কথোপকথনের মাধ্যমে আমাদের সমাজব্যবস্থায় পুত্র ও কন্যার মধ্যে পড়ালেখায় পার্থক্য, সেই সঙ্গে অভিভাবক হিসেবে উভয়ের ভবিষ্যৎ চিন্তায় বৈষম্য তুলে ধরা হয়েছে। ➤ উদ্দীপকে শিক্ষিত ভদ্রলোকের কন্যার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করলে অশিক্ষিত চাষি বলে, মেয়ে বিয়ে হয়ে গেলে জামাই যেভাবে বলে সেভাবেই চলবে। উদ্দীপকের অশিক্ষিত চাষির উপর্যুক্ত উক্তিতে 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে আলোচিত আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার পুরুষের নিদারূণ স্বার্থপরতা ও আধিপত্য মানসিকতা এবং নারীকে পিত্রালয় ও শ্বশুরালয়ে দাসীরূপে গণ্য ও ব্যবহার করার দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে উঠেছে। সারকথা: নারী সম্পর্কে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের হীন মানসিকতা উদ্দীপক ও 'অর্থালী' প্রবন্ধে ফুটে উঠেছে। উভয় স্থানেই নারীর প্রতি অবজ্ঞা ও অবহেলা প্রকাণ পেয়েছে। পুরুষতান্ত্রিক এই মানসিকতার তীব্র সমালোচনা করেছেন লেখক।
HSC Bangla 1st Paper গদ্য : অর্ধাঙ্গী CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 1st Paper · গদ্য : অর্ধাঙ্গী · সৃজনশীল
"বিয়া হইয়া গেলে জামাই যেইভাবে বলে সেইভাবেই চলবো।" 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন…
উদ্দীপক
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর