উদ্দীপকটিতে 'বিদ্রোহী' কবিতার মূলভাবের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি বলে আমি মনে করি।
শাসকেরা যখন শোষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন অনেক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় চারদিকে। এই পরিস্থিতিতে কতিপয় সাহসী প্রাণ তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। আবার কেউ সকল প্রকার অন্যায়-অত্যাচার বিলীন না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিদ্রোহ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করে।
উদ্দীপকে শাসকশ্রেণির অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষিত হয়েছে। সাহসিকতার সঙ্গে জনগণ সংগ্রামী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। সব ভয়কে তুচ্ছ করে জয়ধ্বনি করতে থাকে তারা। উদ্দীপকের 'এমন বিদ্রোহ চেতনার পরিচয় পাওয়া যায় 'বিদ্রোহী' কবিতায়ও। তবে উদ্দীপকের তুলনায় কবিতার মূলভাব আরও ব্যাপক। 'বিদ্রোহী' কবির আত্মশক্তির ও কবিসত্তার যে পরিচয় ও প্রকাশ ঘটেছে সেটি তাঁর একার শক্তি নয়, সমস্ত প্রতিবাদী মানুষের শক্তি বা জাতীয় শক্তি, যা শাসকশ্রেণির ধ্বংসের উদ্দেশ্যে ব্যবহারযোগ্য।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি শাসকশ্রেণির অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন। তবে তিনি কেবল বিদ্রোহ করেই ক্ষান্ত হননি। তিনি এসব অন্যায়ের অবসান কামনা করেছেন। যতদিন তা না হচ্ছে তত দিন এই বিদ্রোহ চলমান রাখার প্রতিজ্ঞাও ব্যক্ত করেছেন কবি। এই দিকগুলো উদ্দীপকে নেই। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটিতে 'বিদ্রোহী' কবিতার মূলভাবের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি।