"উদ্দীপকের মতো 'বিদ্রোহী' কবিতায়ও দ্রোহের স্বাক্ষর নিহিত।" - কথাটি যথার্থ।
সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, ক্রোধ-ঘৃণা ইত্যাদি মনের অসংখ্য মৌলিক অনুভূতির মধ্যে প্রেম ও দ্রোহ বা বিদ্রোহ এতটাই শক্তিশালী যে এই চেতনার দ্বারা মানুষ নিমিষে বদলে যেতে পারে, এমনকি জীবনকেও উৎসর্গ করতে পারে। প্রেমের মতো দ্রোহও হয়ে উঠতে পারে কাব্যের প্রধান উপাদান। তবে কাব্যে দ্রোহ চেতনার প্রতিফলন ঘটে বিশেষ পরিপ্রেক্ষিতে।
ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রামের অনবদ্য কবিতা বিদ্রোহী এবং ধুমকেতু আজও চেতনায় অগ্নিস্ফুলিঙ্গের উৎসারণ ঘটায়। নজরুল তার সমকালের সমাজনীতি, রাজনীতি ও ব্যক্তি মানুষের অর্ন্তগত নৈতিক অবস্থানকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন, অনুসন্ধান করেছেন ও বিদ্যমান অসঙ্গতির সঙ্গে আপোষ করতে না পেরে দ্রোহী হয়ে উঠেছেন। এখানেই তার বিদ্রোহী সত্তার শেকড় নিহিত।
উভয় কবিতায় ছিল অন্তর্গত চেতনায় শাণিত দেশপ্রেম। ভারতের স্বাধীনতার পক্ষে দ্রোহউদ্ভাসিত হয়ে দুঃসাহসী উচ্চারণ - 'আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্ণিশ।' ধুমকেতুর পুচ্ছটি উচ্চে তুলে ধরে নজরুল পরাধীনতার লৌহশৃঙ্খল ভেঙ্গেছিলেন। সাত সাতশ নরকজ্বালা জ্বলে উঠে কবির কপালে। তিনি বার বার ফিরে আসতে চান পরাধীনতার শিকল ছিন্ন করে। অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে, অনিয়মের বিরুদ্ধে দলে যান নিয়ন কানুন শৃংঙ্খল।
মানবপ্রেম যেখানে পদদলিত সেখানে কবিতা নিজেই বিদ্রোহী সত্ত্বায় দেদীপ্যমান। তৎকালীন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় শোষণের বিরুদ্ধে স্রষ্টাকে আহবান করে কবিতায় প্রকাশ। ধুমকেতু যেমন বারবার মহাবিপ্লবের জন্য ফিরে আসে, তেমনি কবি আসতে চান দ্রোহের মন্ত্র হাতে নিয়ে।
তাই বলা যায়, "উদ্দীপকের মতো 'বিদ্রোহী' কবিতায়ও দ্রোহের স্বাক্ষর নিহিত।" - কথাটি যথার্থ হয়েছে।