• "উদ্দীপকটি "সোনার তরী' কবিতার কবিচেতনার আংশিক প্রতিফলন মাত্র।"-মন্তব্যটি যথার্থ।
• একজন ব্যক্তির কর্ম এবং উদ্দেশ্যই তাকে দৃষ্টান্ত হিসেবে তৈরি করে। কারণ, কর্মীর মৃত্যু হলেও কর্ম অবিনশ্বর। মহাকালের স্রোতে সবকিছু হারিয়ে যায়, কেবল রয়ে যায় মহৎ কাজ।
• উদ্দীপকটিতে মহৎ কর্মের মাধ্যমে বয়সের সীমারেখা ছাড়িয়ে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকার বিষয়টি স্থান পেয়েছে। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য মাত্র ২১ বছর বেঁচে ছিলেন। কিন্তু চমৎকার লেখনী বা সৃষ্টিকর্ম তাকে অমর করে রেখেছে। মহৎ কর্মের মাধ্যমে চিরকাল বেঁচে থাকার এই দিকটি 'সোনার তরী' কবিতারও মূল সুর। তবে এছাড়াও সোনার তরী' কবিতায় বিস্তৃত বিষয় উঠে এসেছে, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশিষ্ট জীবনদর্শন এখানে চিত্রিত হয়েছে। কবিতাটিতে দেখা যায়, মহাকালের প্রতীক হিসেবে কবি একজন মাঝিকে চিত্রিত করেছেন। প্রবল স্রোতের মধ্যে জেগে থাকা দীপের মতো একটি ছোট ধানখেতে সোনার ধান নিয়ে অপেক্ষারত এক নিঃসঙ্গ কৃষকের চিত্র এঁকেছেন। ছোট জমিতে উৎপন্ন ফসলের সবটাই অর্থাৎ কবির সমগ্র সৃষ্টি তুলে দেন মহাকালের স্রোতে ভেসে আসা সোনার তরীতে। কিন্তু স্রষ্টার সেখানে সংকুলান হয় না। শূন্য নদীর তীরে আশাহত কৃষকের বেদনা গুমরে মরে। এসব দিক উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
• 'সোনার তরী' কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিশিষ্ট জীবনদর্শন প্রতিফলিত হয়েছে। মানুষের সৃষ্টিকর্মের মহত্তম দিক, মহাকালের দিক এখানে বিশেষভাবে রূপায়িত হয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকে কেবল 'বয়স নয়, কর্মেই সার্থকতা' এ বিষয়টি উঠে এসেছে। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।