সৃজনশীল মহৎকর্মের মধ্য দিয়ে মানুষের বেঁচে থাকার দিক বিবেচনায় 'মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে, বয়সের দ্বারা নয়'-উদ্দীপকের এই উক্তিতে 'সোনার তরী' কবিতার মূলভাবের প্রতিফলন ঘটেছে- মন্তব্যটি যথার্থ।
'সোনার তরী' কবিতার মূলভাবে আমরা দেখি যে, মানুষ তার কর্মের মধ্য দিয়েই বেঁচে থাকে। এ কবিতায় দেখা যায়, এক কৃষক রাশি রাশি ধান কেটে তীরে বসে আছে নদী পার হবে বলে। এখানে কৃষক হলো প্রতীকী অর্থে কবি এবং রাশি রাশি ধান হলো কবির সৃষ্টিকর্ম। কিন্তু দেখা যায়, মাঝি শুধু সোনার ধান রুপী কবির সৃষ্টিকর্ম নিয়ে চলে যায়, কৃষকরূপী কবিকে নেয় না। তাঁকে অপেক্ষা করতে হয় মহাকালের স্রোতে বিলীন হওয়ার জন্য।
উদ্দীপকের লিওনার্দো দা ভিঞ্চি এমন একজন অমর শিল্পী যিনি মোনালিসার মতো অসংখ্য চিত্রকর্মের মাধ্যমে শিল্পপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছেন। তাই মৃত্যুর পরও তিনি সবার মাঝে বেঁচে আছেন। তাঁর মহৎকর্মের মাধ্যমে এভাবে অমর হয়ে থাকাই 'সোনার তরী' কবিতার মূলভাব। 'সোনার তরী' কবিতায় নিবিড়ভাবে মিশে আছে কবির জীবনদর্শন। তিনি বুঝিয়েছেন মহাকালের স্রোতে মানুষের মৃত্যুর মাধ্যমে বিলীন হয়ে যাওয়া একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। একজন মানুষ তাঁর মহৎকর্মের মাধ্যমে বেঁচে থাকে যুগ যুগ ধরে।
উদ্দীপকের লিওনার্দো দা ভিঞ্চি যেমন তাঁর মহৎকর্মের মধ্য দিয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন, তেমনই 'সোনার তরী' কবিতার কৃষকরূপী কবি টিকে থাকেন তাঁর ধানরূপী সৃষ্টি কর্মের মধ্য দিয়ে। মহাকালের স্রোতে মানুষের অস্তিত্ব বিলীন হলেও বেঁচে থাকে মানুষের কর্ম। এসব - দিক বিবেচনায় তাই বলা যায় যে, 'সোনার তরী' কবিতার মূলভাব এবং উদ্দীপকের মূলভাব হলো- 'মানুষ বাঁচে কর্মের মধ্যে।'