• উদ্দীপকটিতে 'সোনার তরী' কাব্যের গভীর জীবনদর্শনের পরিচয় আংশিক প্রকাশ পেয়েছে।
• জগৎ-সংসারে ব্যক্তিমানুষের মূল্য নেই, মূল্য তার কর্মের। কর্ম রেখে ব্যক্তিকে বিদায় নিতে হয়। এই বিদায় ক্ষণিকের বিদায় নয়, চিরতরে বিদায়; জগতের মায়া ছেড়ে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একেবারে হারিয়ে যাওয়া।
• উদ্দীপকে স্নেহের অধিকারে এক শিশু তার বাবার পথ রোধ করে দাঁড়িয়েছে কথার মধ্য দিয়ে। সে কিছুতেই তাকে যেতে দেবে না। দুটি ছোট হাতে কাউকে ধরে রাখার শক্তি তার নেই। তবু স্পর্ধা ভরে বলেছে-"যেতে আমি দিব না তোমায়।" এই যেতে দিতে না চাওয়া ক্ষণিকের বিদায়কে আটকে দেওয়ার জন্য। অন্যদিকে 'সোনার তরী' কবিতায় প্রতিফলিত কালের গর্ভে বিলীন হওয়ার অপেক্ষায় থাকা কৃষকের বিদায় চিরকালের। অনিবার্য মৃত্যুর জন্য সে অপেক্ষমাণ। কারণ জগতে কর্মই টিকে থাকে, কর্মী থাকে না। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'সোনার তরী' কাব্যের গভীর জীবনদর্শনের আংশিক পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে।