• উদ্দীপকটি 'সোনার তরী' কবিতার মূলভাবকে কিছুটা প্রতিফলিত করতে পেরেছে।
• সৃষ্টির অনিবার্য নিয়মে মানুষ হারিয়ে যায়। কিন্তু হারিয়ে যায় না মানুষের কর্ম। মহাকালের গর্ভে মানুষ বিলীন হয়ে গেলেও মহৎ কর্ম থাকে অবিনশ্বর।
• উদ্দীপকে 'সাড়ে তিন হাত জমি' গল্পের কাহিনি বলা হয়েছে। গল্পের নায়ক পাখোম অর্থ ও সম্পদলোভী। ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ব্যস্ত সব সময়। ফলে এক সময়ে সে মারা যায় এবং কালের স্রোতে সে হারিয়ে যায়। তাকে কিংবা তার কর্মকে কেউ স্মরণে রাখে না। অর্থাৎ কালের স্রোতে সে হারিয়ে যাচ্ছে, তার বিনাশ হচ্ছে এটাই 'সোনার তরী' কবিতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আর কোনো বিষয়ই কবিতার মূলভাবকে ধারণ করতে পারেনি। 'সোনার তরী' কবিতায় রূপকের আড়ালে কবি তাঁর সৃষ্টিকর্ম এবং মহাকালে তা বহন করে নেওয়ার কথা বলেছেন। কবি নশ্বর ব্যক্তিজীবনের বিপরীতে কর্মের অমরত্বের কথা বলেছেন। কেননা মহাকালের স্রোতে ব্যক্তিমানুষ বিলীন হয়ে যায়, টিকে থাকে তার মহৎ সৃষ্টিকর্ম। মহাকাল ব্যক্তিকে গ্রহণ না করলেও তার সৃষ্টিকে নিয়ে যায় কালান্তরে।
• 'সোনার তরী' কবিতায় কবি নিজেকে কৃষকের সাথে নিজের তুলনা করেছেন। ধান নিয়ে অপেক্ষারত কৃষক আসলে কবি নিজে, আর মাঝি সেখানে মহাকালের প্রতীক। মাঝি তার তরিতে কৃষকের সোনার ধান নিয়ে গেলেও কৃষককে ফেলে রেখে যায়, যা মূলত কর্তাকে রেখে মহাকালের কর্ম নিয়ে যাওয়ার বিষয়টির প্রতিফলন। কবিতার এসব বিষয় উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি কবিতার মূলভাব পুরোপুরি ধারণ করে না।