উদ্দীপকটি 'সোনার তরী' কবিতার কবিচেতনার আংশিক প্রতিফলন মাত্র- মন্তব্যটি যথার্থ।
জগৎ সংসারে ব্যক্তিমানুষের মূল্য নেই, মূল্য তার কর্মের। কর্ম রেখে ব্যক্তিকে বিদায় নিতে হয়। এ বিদায় ক্ষণিকের বিদায় নয়, চিরতরের বিদায়; জগতের মায়া ছেড়ে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একেবারে হারিয়ে যাওয়া ।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, মানুষের জীবনকে বয়সের সীমারেখা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। উদাহরণ হিসেবে এখানে কবি সুকান্তের কথা বলা হয়েছে। তাঁর অসাধারণ সৃষ্টিশীলতার জন্য বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি শুকতারার মতো উজ্জ্বল হয়ে আছেন । এখানে মূলত মানুষের কর্মের মাধ্যমে অবিনশ্বর হয়ে থাকার দিকটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । এই বিষয়টি 'সোনার তরী' কবিতায়ও কবি ফুটিয়ে তুলেছেন । তবে এটি কবিতার একটি আংশিক চিত্র। কবিতায় কবি রূপকভাবে বিভিন্ন দৃষ্টান্তের মাধ্যমে কর্মীর অমর হয়ে থাকার বিষয়টি ফুটিয়ে তুলেছেন। এ কবিতায় কবি কৃষকের রূপকে নিজের সাহিত্য জীবনের সৃষ্টিকে তুলে ধরেছেন। কৃষক তার কষ্টে উৎপাদন করা সোনার ফসল তরিতে তুলে দিতে পারলেও নিজের স্থান সেই তরিতে হয়নি। তেমনই কবির অসামান্য সৃষ্টিগুলো মহাকাল ধারণ করলেও, কবির স্থান সেই মহাকাল ধারণ করেনি।
'সোনার তরী' কবিতায় নিবিড়ভাবে মিশে আছে কবির জীবনদর্শন । মহাকালের স্রোতে জীবন-যৌবন ভেসে যায়, কিন্তু বেঁচে থাকে মানুষের সৃষ্ট সোনার ফসল। কবির শারীরিক অস্তিত্বকে নিশ্চিতভাবে হতে হয় মহাকালের করালগ্রাসের শিকার। উদ্দীপকে এই বিষয়গুলো সম্পূর্ণভাবে ফুটে ওঠেনি । তাই উপর্যুক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ ।