মানুষ তার কর্মের মধ্যেই বেঁচে থাকে, "তার কর্ম পথ পেয়েছে তারই অবর্তমানে আমাদের মাঝে" - কথাটি দ্বারা সে কথাই বোঝানো হয়েছে।
মানব জীবনের সম্পূর্ণ সময়টাই কেটে যায় বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনে ব্রত হয়ে সম্পদ অন্বেষণের চাহিদায়। মৃত্যু সন্নিকটে জেনেও প্রতিটি মুহূর্তে কষ্টার্জিত সম্পদকেই তার একমাত্র অবলম্বন বলে মনে করে মানুষ। সম্পদের নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে মানব জনম হয়ে ওঠে সার্থকময়।
উদ্দীপকের বিদ্যানন্দ সমাজের মানুষের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিল, অথচ বিদ্যালয়ের সুনামের অর্জন সবটুকু তিনি উপভোগ করতে পারলেন না। আগেই মহাকালের গভীরে চিরতরে হারিয়ে গেলেন।
অন্যদিকে, তার কর্মের ফলাফল ও ভবিষ্যতগামীতা তার অবর্তমানে তার সহচরদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে কালক্রমে। মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হিসেবে রেখে গেছেন তার কৃতকাজ। তেমনি করে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "সোনার তরী" কবিতায় কৃষক তার চিরজীবন ফলানো ফসল নৌকায় উঠানোর পর তার নিজের জন্য কোন জায়গা রইল না। শত অনুরোধ সত্ত্বেও মাঝি তার নৌকায় কৃষককে ঠাই দিলেন না। কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল নিয়ে তিনি হারিয়ে গেলেন মহাকালের দিকে, আর কৃষক পরে থাকল তার বিনাশের আশায়। মহাকালের স্রোতে জীবন যৌবন ভেসে যায় কিন্তু বেঁচে থাকে মানুষের সৃষ্ট সোনার ফসল। তার ব্যক্তি সত্তা ও শারীরিক অস্তিত্ব কে নিশ্চিত ভাবে হতে হয় মহাকালের নিষ্ঠুর কালগ্রাসের শিকার।
তাই তো বলা হয়, মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে, বয়সের মধ্যে নয়।