উদ্দীপকের কবিতাংশে উল্লিখিত 'গীত শেষে বীণা পড়ে থাকে ধুলি মাঝে' চরণটিই 'সোনার তরী' কবিতার অন্তর্ভাবনাকে প্রকাশ করে।
কীর্তিমানের মৃত্যু নেই অর্থাৎ যারা ভালো কাজ করে তারা পৃথিবীতে অমর হয়ে থাকে। ঠিক সোনার তরী কবিতাটি একটি রূপক কবিতা এখানে রূপকের আড়ালে জীবনের একটি অমোঘ সত্যকে প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, কালের করালগ্রাসে মানুষ তার শারীরিক অস্তিত্ব হারায়,কিন্তু তার কৃতকর্মকে মৃত্যু স্পর্শ করতে পারে না।
উদ্দীপকের কবিতাংশে নিজের সৃষ্টিকর্মকে ঘিরে কবির প্রত্যাশার দিকটি উম্মোচিত হয়েছে। মহাকালের স্রোতে কবি হারিয়ে গেলেও তার সৃষ্ট গান সবার মনে জেগে থাকে, এটাই কবির চাওয়া। তিনি লক্ষ্য করেছেন, গানের সুরে সবাই মোহিতো হয়, কিন্তু বাদ্যযন্ত্রের দিকে তাদের নজর পড়ে না। আর তাই কবি নিজের পরিবর্তে তার সৃষ্ট শিল্পকর্মের অমরতাই প্রার্থনা করেছেন। আলোচ্য কবিতায় আমরা এমন জীবন দর্শনই দেখতে পাই।
সোনার তরী কবিতায় কবি বলতে চেয়েছেন, সানুষের কর্মই পৃথিবীতে টিকে থাকে,ব্যক্তিমানুষ নয়। অর্থাৎ, সৃষ্টিকর্ম কালের খেয়াতে স্থান পেলেও স্রষ্টাকে অতৃপ্তির বেদনা নিয়ে অপেক্ষা করতে হয় অনিবার্যভাবে মহাকালের শূন্যতায় বিলীন হওয়ার জন্য। অন্যদিকে উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি তাঁকে ভালো না বাঁসলেও তার গান তথা সৃষ্টিকর্মকে ভালোবাসার অনুরোধ জানিয়েছেন। এর মধ্যে দিয়ে আলোচ্য কবিতাটিতে প্রকাশিত মহাকালের কালস্রোতে সৃষ্টিকর্মের টিকে থাকার এবং শিল্পস্রষ্টার বিলীন হওয়ার প্রসঙ্গটি ফুটে উঠেছে।সুতরাং, প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাঝে সোনার তরী কবিতার মূল বক্তব্য নিহিত রয়েছে।