“মানুষ বাঁচে তাঁর কর্মে, বয়সে নয়।”—উদ্দীপকের চিত্র ও "সোনার তরী" কবিতার মূল প্রতিপাদ্য এটাই।
'সোনার তরী' কবিতায় বেশ কয়েকটি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এ কবিতায় কবি এক গভীর জীবনসত্য সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। আর তা হলো সময়ের স্রোতে ব্যক্তি মানুষ এক সময় হারিয়ে যায়; বেঁচে থাকে কেবল তার সুকৃতি। আর তাই মহাকালের তরীতে সৃষ্টিশীল কর্ম ঠাঁই পেলেও শিল্পস্রষ্টার সেখানে জায়গা হয় না। বস্তুত, শতচেষ্টা করেও মানুষ তাঁর অনিবার্য পরিণতি মৃত্যুকে এড়াতে পারেন না।
উদ্দীপকে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ১৯৪৩ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ অবলম্বনে অঙ্কন করেন উপরের চিত্রটিসহ অসংখ্য চিত্র যেগুলো 'দুর্ভিক্ষের চিত্রমালা' নামে দেশ-বিদেশে সাড়া জাগায়। জয়নুল আবদিন মারা গেলেও তার চিত্রকর্ম তাকে অমর করে তোলে।
অর্থাৎ, মহৎ সৃষ্টিকর্ম কালের খেয়াতে, স্থান পেলেও স্রষ্টাকে অতৃপ্তির বেদনা নিয়ে চলে যেতে হয় অনিবার্যভাবে মহাকালের শূন্যতায় বিলীন হওয়ার জন্য।
মানুষ তার অনিবার্য মৃত্যুকে এড়াতে পারে না, কেবল, বেঁচে থাকে তার কর্ম। এ কারণেই মহাকালরূপী মাঝি কৃষকের কর্মফল সোনার ধান নৌকায় তুলে নেয় ঠিকই, কিন্তু ব্যক্তি কৃষকের সেখানে স্থান হয় না। একইভাবে মহাকালের কালগর্ভে জয়নুল আবেদীন হারিয়ে গেলেও তাঁদের তৈরি চিত্রকর্ম এখনো তার স্মৃতিকে ধারণ করে রয়ে গেছে। তাই বলা যায়, “মানুষ বাঁচে তাঁর কর্মে, বয়সে নয়।”—উদ্দীপকের চিত্র ও "সোনার তরী" কবিতার আলোকে উক্তিটি যথার্থ।