পৃথিবী মানুষের কর্মফল গ্রহণ করলেও ব্যক্তি মানুষটাকে হারিয়ে যেতে হয় কালের অতল গহ্বরে।
সময়ের পরিক্রমায় ব্যক্তি মানুষের মৃত্যু হয় ঠিকই। কিন্তু তার সৃষ্টিশীল কর্মের মৃত্যু নেই। সংগত কারণেই মানুষের মৃত্যুর পরও তার সৃষ্টিকর্ম টিকে যায়। রূপকের আড়ালে এ ভাবসত্যটিই উন্মোচিত হয়েছে আলোচ্য কবিতাটিতে। সেখানে দেখা যায়, বিরূপ পরিবেশে ধান কাটার পর এক কৃষক মাঝিকে তাঁর ধান তুলে নেওয়ার জন্য আর্জি জানালে মাঝি তাঁর কর্মফলরূপী ধান নৌকায় তুলে নেয়, কিন্তু ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের আশ্রয় মেলে না। অর্থাৎ, মানুষের মহৎ কর্ম মহাকালের মাঝে ঠাঁই পেলেও ব্যক্তি মানুষকে অবধারিতভাবেই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হয় ।
জমিদার নারায়ণ চৌধুরী জীবনের সকল জ্ঞান ও সম্পদ উজাড় করে নিজ সন্তানদের শিক্ষিত করে তোলেন।তারা এখন বিদেশে স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। অথচ নারায়ণ চৌধুরীর খোঁজখবর নেওয়ার কেউ নেই। সন্তানদের সম্মানের কথা ভেবে তিনি বৃদ্ধাশ্রমেও যান না। নিজ বাড়িতে তাঁর একা একা দিন কাটে।
সময় পরিকল্পনায় অনিবার্যভাবে ব্যক্তি মানুষের মৃত্যু হলেও তার সৃষ্টিকর্মের মৃত্যু নেই। মাঝি সে মহাকালের প্রতীক। সে কৃষকের উৎপাদিত ফসল নৌকায় তুলে নিলেও কৃষককে তীরেই ফেলে রেখে চলে যায়। ঠিক তেমনি, নারায়ণ চৌধুরীর সকল ধন-সম্পদ ও জ্ঞান গরিমা তাঁর সন্তানরা গ্রহণ করলেও নারায়ণ চৌধুরীকে গ্রহণ করেননি। তাঁকে একা একাই জীবনের শেষ পরিণতির দিকে এগোতে হবে। তাই বলা যায়, সৃষ্টিকর্তা নয়, সৃষ্টিকর্মই মুখ্য এই পৃথিবীর বুকে।