উদ্দীপকে চর্যাপদের পদকর্তাদের কর্মফলের অমরতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে, যা 'সোনার তরী' কবিতার সোনার ধানের মতোই।
'সোনার তরী' কবিতায় রূপকের আশ্রয়ে মানবজীবনের গূঢ় দর্শন প্রকাশিত হয়েছে। এ কবিতায় বাহ্যরূপে বর্ষার হিংস্র স্রোত পরিবেষ্টিত ধানখেতে রাশি রাশি সোনার ধান নিয়ে অপেক্ষা করেন এক কৃষক। একসময় ভরা পালে সোনার তরী বেয়ে চলে যেতে থাকা এক মাঝিকে ধানগুলো নিয়ে যাওয়ার জন্য কাতর অনুনয় করেন তিনি। মাঝি তাঁর ধানগুলো তরীতে তুলে নেয়; কিন্তু ব্যক্তিকৃষকের সেখানে স্থান হয় না।
উদ্দীপকে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র ঐতিহাসিক নিদর্শন চর্যাপদের কথা বলা হয়েছে । এখানে বলা হয়েছে, চর্যাপদ হাজার বছর পূর্বে রচিত বলে এর রচয়িতাদের জীবন ইতিহাস তেমন জানা সম্ভব না হলেও তাঁদের কীর্তি নিয়ে আজও গবেষণার অন্ত নেই। এটি আজও বাংলা সাহিত্যের মূল্যবান সম্পদ হিসেবে সমাদৃত। অর্থাৎ, পদকর্তাদের মৃত্যু হলেও তাঁদের সৃষ্টিকর্মের বিনাশ হয়নি। আলোচ্য 'সোনার তরী' কবিতাতেও কবি ব্যক্তি মানুষের মৃত্যুর বিপরীতে মহাকালের কালস্রোতে কর্মফলের টিকে যাওয়ার কথা বলেছেন, যা উদ্দীপকে উল্লিখিত চর্যাপদের পদকর্তাদের জীবন ও কর্মের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে। সে বিবেচনায়, উদ্দীপকটিতে আলোচ্য কবিতায় বিধৃত কর্মফলের অমরতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে ।