'মহাকালের স্রোতে জীবন-যৌবন ভেসে যায়, কিন্তু বেঁচে থাকে মানুষেরই সৃষ্টি সোনার ফসল'– 'সোনার তরী' কবিতার এই ভাববস্তু আলোচ্য উদ্দীপকে সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয়নি ।
সোনার তরী' কবিতায় কবি একজন কৃষকরূপী শিল্পস্রষ্টা। তাঁর সোনালি ফসলের ঠাঁই জগতে হলেও স্রষ্টা হিসেবে তাঁকে কেউ আগলে রাখে না । মহাকালের নিষ্ঠুরতার তাঁর শারীরিক অস্তিত্ব হারিয়ে যায় অতলে। কেউমনে রাখে না শিল্পের স্রষ্টাকে, কেবল তাঁর সৃষ্টিই হয় পূজনীয় ।
উদ্দীপকে কবিতাংশের ভাব আলোচ্য কবিতার ভাববস্তুর মতো নয়।বিস্তৃত জীবনকে জগতে ধরে রাখার ভাব সেখানে ফুটে উঠেছে।যে জগতে কেউ চিরস্থায়ী না সেখানে মূঢ় মেয়ে ব্যক্তিসত্তাকে যেতে দিতে চায় না।সে ছোটে দুটি হাতে আগলে রাখতে চায় ব্যক্তিকে। তার মনে স্নেহভরা শক্তি সঞ্চারিত হয়ে শারীরিক সত্তাকে টিকিয়ে রাখতে চায়।কীভাবে কার সাথে সংগ্রাম করে সে এভাবে ব্যক্তির অস্তিত্ব ধরে রাখার সাহস করে তা প্রশ্নসাপেক্ষ
সোনার তরী' কবিতার ভাববস্তু উদ্দীপকের মতো সংকুচিত নয়। সেখানে ব্যক্তির ব্যথা, বেদনা ও আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ হয়েছে। খরস্রোতা নদীতে নৌকার মাঝি কৃষকের রাশি রাশি ধান তুলে নেয় ঠিকই, কিন্তু সেই ফসলের | মালিকের স্থান হয় না মাঝির নৌকায়। তরী বেয়ে সব ধান নিয়ে গেলেও চাষি পড়ে থাকে চারদিকে তীব্র স্রোত বয়ে যাওয়া শূন্য দ্বীপে। এ জগতে সৃষ্টিকর্ম টিকে থাকলেও স্রষ্টার শারীরিক অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়। মহাকালের স্রোতে ভেসে যায় জীবন-যৌবন। কালের নিষ্ঠুর করালগ্রাসে ব্যক্তিসত্তা ও শারীরিক অস্তিত্ব নিশ্চিতভাবে নিশ্চিহ্ন হয়। কবির এই মর্মবেদনার ভাববস্তু উদ্দীপকে সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয়নি। কেবল মূঢ় মেয়ের ব্যক্তিকে ধরে রাখার মনোবাসনা প্রকাশ পেয়েছে মাত্র। তাই বলা যায়, “আলোচ্য উদ্দীপকে 'সোনার তরী' কবিতার ভাববস্তু সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয়নি” – মন্তব্যটি যথার্থ ।