"ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই- ছোটো সে তরী"- 'সোনার তরী' কবিতার উক্ত চরণ ও উদ্দীপকের ভাবসত্য অভিন্ন।”- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: “ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই— ছোটো সে তরী”– 'সোনার তরী' কবিতার উক্ত চরণ ও উদ্দীপকের ভাবসত্য অভিন্ন।- কথাটি যথাথ, কেননা মহাকালে মানুষের কর্ম স্থান পায়, কিন্তু মানুষের স্থান হয় না। মহাকাল মানুষকে গ্রহণ করে না, তার কর্মকে গ্রহণ করে। মানুষের - মহৎ কর্ম যুগ-যুগান্তর থেকে যায়, কিন্তু মানুষ কালের গর্ভে হারিয়ে যায়। 'সোনার তরী' নামক প্রতীকী কবিতাটিতে দেখা যায়, চারপাশের প্রবল স্রোতের মধ্যে জেগে থাকা দ্বীপের মতো ছোট একটি ধানখেতে উৎপন্ন সোনার ধানের সম্ভার নিয়ে অপেক্ষারত নিঃসঙ্গ এক কৃষক। এখানে আকাশের ঘন মেঘ ভারী বর্ষণ, খরস্রোতা নদী, বাঁকা জল কৃষকরূপী কবির মনে আশঙ্কা তৈরি করেছে। এ রকম পরিস্থিতিতে খরস্রোতা নদীতে ভরা পালে সোনার নৌকা নিয়ে এক মাঝি আসে। উৎকণ্ঠিত কৃষক নৌকা কূলে ভিড়িয়ে তার উৎপাদিত সোনার ধান নিয়ে যাওয়ার জন্য মাঝিকে কাতর মিনতি করে। মাঝি এসে নৌকায় সোনার ধান তুলে নেয়। এরপর কৃষক দেখেন তার সোনার ধানে তরি পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, কৃষকের সেখানে স্থান হবে না। হবে না। সেই প্রসঙ্গেই কবিতায় বলা হয়েছে, "ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাইকা ছোটো সে তরী" কবিতার এই চরণের সঙ্গে উদ্দীপকের ভাবসত্য মিলে যায়। উদ্দীপকে মানুষের নশ্বরতার কথা বলা হয়েছে। সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে মানুষকে চলে যেতে হবে কিন্তু পৃথিবী, টাকা-কড়ি, বাড়িঘর পড়ে থাকবে। তবে জনাকীর্ণ ভুবনে না থাকলেও মানুষের কর্ম-সাধন-সৃজন- পূজন মানুষকে স্মরণীয় করে রাখে। উদ্দীপকের এই ভাবসত্যের সঙ্গে 'সোনার তরী' কবিতার প্রশ্নোক্ত চরণের ভাবসত্য একীভূত। কেননা সোনার তরিতে মহৎ সৃষ্টিরই স্থান সংকুলান হয়া কেবল। ব্যক্তিসত্তা ও তার শারীরিক অস্তিত্বকে নিশ্চিতভাবে হতে হয় মহাকালের নিষ্ঠুর কালগ্রাসের শিকার। সুতরাং প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
HSC Bangla 1st Paper কবিতা : সোনার তরী CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 1st Paper · কবিতা : সোনার তরী · সৃজনশীল
"ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই- ছোটো সে তরী"- 'সোনার তরী' কবিতার উক্ত চরণ ও উদ…
উদ্দীপক
Dinajpur · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর