"উদ্দীপকের শেষ চরণ দুটি যেন 'সোনার তরী' কবিতার জীবনদর্শনের প্রতিচ্ছবি।"- 'সোনার তরী' কবিতার আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর: মূলভাবের দিক থেকে বলা যায় "উদ্দীপকের শেষ চরণ দুটি যেন 'সোনার তরী' কবিতার জীবনদর্শনের প্রতিচ্ছবি" মন্তব্যটি 'সোনার তরী' কবিতার আলোকে যথার্থ। 'সোনার তরী' কবিতায় কবি এক জীবনসত্যকে তুলে ধরেছেন। পৃথিবীতে মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এক সময় মানুষ পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে যায়। কিন্তু মানুষের সৃষ্ট মহৎকর্ম অনন্তকাল থেকে যায়। এই কর্মের মধ্য দিয়েই মৃত্যুর পরেও মানুষ পৃথিবীর বুকে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকে। উদ্দীপকের কবিতাংশের শেষ দুই চরণে বলা হয়েছে- সবাই চাঁদের জোছনা চাইলেও চাঁদকে কেউ চায় না এবং গীতের সময় বীণার সুরঝংকার মানুষকে আনন্দ দিলেও গীত শেষে বীণার কোনো গুরুত্ব থাকে না; সেটি পড়ে থাকে অযত্নে ও অবহেলায়। মূলত পৃথিবী কর্মের মূল্যায়ন করে, কর্মীর নয়। যার ফলে কর্ম শেষে কর্মী মূল্যহীন হয়ে পড়ে। ব্যক্তিমানুষের পরিবর্তে তার মহৎকর্মকে মনে রাখার উক্ত দিকটিই 'সোনার তরী' কবিতার মূল বিষয়। উদ্দীপকের এই অমোঘ সত্যটি 'সোনার তরী' কবিতার মূলভাবেও তুলে ধরা হয়েছে। এখানে দেখানো হয়েছে- মহাকালের নিষ্ঠুর কালগ্রাসে একসময় মানুষের ক্ষণস্থায়ী জীবন হারিয়ে যায়। কিন্তু মানুষের সৃষ্ট সোনার ফসল তথা মহৎকর্মসমূহ থেকে যায়। এই কর্মের মধ্য দিয়ে কর্মীরা পৃথিবীর বুকে চিরন্তনভাবে বেঁচে থাকে। উদ্দীপকের কবি তাঁর গানের মাধ্যমে এবং কবিতার কবি তাঁর উৎপন্ন সোনার ফসল তথা মহৎকর্মের মধ্য দিয়ে পৃথিবীতে মৃত্যুর পরেও বেঁচে থাকতে চেয়েছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শেষ দুটি চরণ যেন 'সোনার তরী' কবিতার জীবনদর্শনের প্রতিচ্ছবি।
HSC Bangla 1st Paper কবিতা : সোনার তরী CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 1st Paper · কবিতা : সোনার তরী · সৃজনশীল
"উদ্দীপকের শেষ চরণ দুটি যেন 'সোনার তরী' কবিতার জীবনদর্শনের প্রতিচ্ছ…
উদ্দীপক
Dhaka · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর