• 'বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার রক্তাক্ত স্মৃতিচিহ্নিত একুশের পথ ধরে বাঙালি স্বাধীনতা অর্জন করেছে।'- মন্তব্যটি উদ্দীপক ও 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার আলোকে যথার্থ।
• পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী প্রথমে আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাঙালিরা মাতৃভাষার অধিকার আদায় করে নেয়। আর পরবর্তী সব আন্দোলনে এই চেতনাই ছিল আমাদের প্রেরণার বাতিঘর।
• উদ্দীপকে একুশের অবিনাশী চেতনাকে উপজীব্য করা হয়েছে। বস্তুত ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই এদেশে ছেষট্টির ছয় দফা, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচনে জয় এবং পরবর্তী সময়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়। এর মাধ্যমে আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। সংগত কারণেই ভাষা আন্দোলনের শহিদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি আমাদের মনে চিরদিন জাগরুক থাকবে। • 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' একটি দেশপ্রেম, গণজাগরণ এবং সংগ্রামী চেতনার কবিতা। ১৯৬৯-এ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পূর্ববঙ্গে যে গণ-আন্দোলনের সূচনা হয়, কবিতাটি সেই গণজাগরণের পটভূমিতেই লিখিত। পাশাপাশি কবিতাটিতে একুশের রক্তঝরা দিনগুলিতে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এদেশের সংগ্রামী মানুষের আত্মাহুতির দিকটিও প্রগাঢ়তা লাভ করেছে, যে চেতনার আলোকে ১৯৬৯-এর গণআন্দোলন সংঘটিত হয়। একইভাবে উদ্দীপকেও ভাষা আন্দোলনের অবিনাশী চেতনায় পরবর্তী সকল আন্দোলন-সংগ্রামসহ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেসব বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।