উদ্দীপক এবং 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতা মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সংগ্রামী চেতনার এক অসাধারণ শিল্পভাষ্য— মন্তব্যটি যথার্থ ।
অত্যাচারী শাসন ও শোষণ থেকে রেহাই পেতে চাইলে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কেননা সকলের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামী চেতনাকে অত্যাচারী শাসকেরা খুবই ভয় পায় । কারণ গণমানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত সংগ্রামী চেতনা একবার জেগে উঠলে সমস্ত অন্যায়-অবিচার ও শোষণের কালো হাত নির্মূল না করে ক্ষান্ত হয় না ।
উদ্দীপকের রাসেল ও ফরিদ রেডিওতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ শুনে পাকিস্তানিদের কবল থেকে প্রিয় মাতৃভূমিকে রক্ষা করার জন্য যুদ্ধে যোগদান করে। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে তারা দুজনেই শত্রুদের গুলির আঘাতে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে। 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায়ও কবি অত্যাচারী পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে গণমানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন, সংগ্রামের চমৎকার চিত্র অঙ্কন করেছেন। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ববঙ্গে যে গণ- আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল সেই চিত্র কবি এই কবিতায় চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। কবির কাছে মনে হয়েছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মতো ১৯৬৯-এর গণ আন্দোলনেও সালাম, বরকতেরা রাজপথে নেমে পড়েছে। শোষকের কবল থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য কবি ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করেছেন
কবি বিচিত্র শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সংগ্রামী চেতনার এক শিল্পভাষ্য রচনা করেছেন এই কবিতায়। কবির মতে, ১৯৬-এ আবারও যেন রাজপথে নেমে সালাম শূন্যে পতাকা তোলে, বরকত বুক পাতে ঘাতকের থাবার মুখে। এখানে মূলত কবি সালাম, বরকত বলতে সংগ্রামী মানুষের সাহসী ও সংগ্রামী চেতনাকে বুঝিয়েছেন যা উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।