"উদ্দীপকটি 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার একটি খণ্ডচিত্র মাত্র"- মন্তব্যটি যথার্থ।
স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতিসত্তা হিসেবে বাঙালিদের আত্মপ্রকাশের পেছনে রয়েছে আন্দোলন-সংগ্রামের এক দীর্ঘ ইতিহাস। সেই ইতিহাস পরিক্রমায় ১৯৫২ সালের ভাষা-আন্দোলন অনন্য স্থান দখল করে রয়েছে। বস্তুত ভাষা-আন্দোলনই আলাদা জাতিসত্তা হিসেবে পরবর্তী মুক্তি-আন্দোলনে উজ্জীবিত করেছিল।
উদ্দীপকের কবিতাংশে ভাষা-আন্দোলনের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি দুপুরবেলায় ভাষা আন্দোলনকারীরা ১৪৪ ধারা ভেঙে রাজপথে মিছিল করেন। সেই মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, বরকত, রফিকসহ আরও অনেকে শহিদ হন। মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে তাঁদের আত্মদান সমস্ত আন্দোলনের অনুপ্রেরণা। তাঁদের বুকের রক্তে সেদিন ভেসে যায় রাজপথ। উদ্দীপকের কবিতাংশের কবি ভাষাশহিদদের রক্তক্ষরণের সেই পুণ্য স্মৃতিকেই স্মরণ করেছেন। 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায়ও এ দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় কবি নিজের বক্তব্যকে স্পষ্ট করার জন্য ভাষা-আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনেছেন। তিনি মনে করেন, ১৯৫২ সালের ভাষা-আন্দোলনের পথ ধরে বাঙালিরা একটি স্বতন্ত্র জাতিসত্তা হিসেবে আত্মপরিচয় লাভ করে। আর সেই চেতনারই ধারাবাহিকতায় সংঘটিত হয় ১৯৬৯ সালের গণ-আন্দোলন, যেখানে বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে শোষক শ্রেণির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে। উদ্দীপকের কবিতাংশে ভাষা-আন্দোলনের কথা বর্ণিত হলেও ১৯৬৯ সালের গণ- আন্দোলন এবং এটি সংঘটিত হওয়ার ক্ষেত্রে ভাষা-আন্দোলনের প্রভাবের বিষয়টি উঠে আসেনি। এই বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।