উদ্দীপক এবং 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ ' কবিতা বাঙালির স্বতঃস্ফূর্ত সংগ্রামী চেতনার এক অসাধারণ শিল্পভাষ্য- উক্তিটি আমার কাছে সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত মনে হচ্ছে।
কবিতাটিকে খুটিয়ে দেখতে গেলে দুটি অংশ খুজে পাওয়া যায়। একটি চেতনার অংশ এবং অন্যটি স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। ঊনসত্তরে কেউ ছিল ভীষণ রকমের জেদী, কেউ দারুণ বিপ্লবে ফেটে পড়েছে, কেউ ঘাতকদের সামনে বুক পেতে দিয়েছে। সালাম আর বরক আমাদের অনুপ্রেরণা। সালামের চোখ আলোচিত ঢাকা, তার মুখ তরুণ শ্যামলের পূর্ব বাংলা। রাজপথে নেমে পতাকা উত্তোলন করে তিনি নক্ষত্রের মত অবিরত অবিনাশী বর্ণমালা ছড়িয়েছে। আর বরকত অবিনাশী বর্ণমালার গাঢ় উচ্চারণ করেছে। এখনো বীরের রক্তে দুঃখিনী মাতার অশ্রুজলে ফোটে ফুল । বাস্তবতার বিশাল চত্বরে হৃদয়ের হরিৎ উপত্যকায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বাঙালি পরিচয়ে গর্বের কথা বলা হয় হয়েছে। উদ্যত লড়াইয়ের মুহুর্তেও এরা নির্ভয় ছিল। স্বপ্নের সাথে বসবাস করার পাশাপাশি শত্রুর সাথে লড়াই করেছে। শস্য অনুযায়ী অস্ত্র শান দিয়েছে। হাসিমুখে বিজয়ী গান গেয়েছে এবং বিপদের মুখ থেকে পিছপা হয়নি। এখানে মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দিকটিই ফুটে উঠেছে।
যদি উদ্দীপক এবং কবিতাকে একই সাথে পর্যালোচনা করা যায়, তাহলে দেখা যাবে উভয় স্থানে বাঙালির স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণের সুস্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে।