"তবু আঠারোর শুনেছি জয় ধ্বনি" পদ্ধতিটির মাধ্যমে কবি আঠারো বছর বয়সের জয়গান গেয়েছেন ।
আঠারো বছর বয়স এক উদ্দীপনা ও উৎসাহের নাম। কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণের এ বয়সটি উত্তেজনার, প্রবল আবেগ ও উচ্ছ্বাসে জীবনের ঝুঁকি নেবার। এ বয়স অদম্য দুঃসাহসে সকল বাধা-বিপত্তিকে পেরিয়ে যাওয়ার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার। এ বয়সের ধর্মই হলো আত্মত্যাগের মহান মন্ত্রে উজ্জীবিত হওয়া, আঘাত-সংঘাতের মধ্যে রক্ত- শপথ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া। পাশাপাশি সমাজজীবনের নানা বিকার, অসুস্থতা ও সর্বনাশের অভিঘাতে এ বয়স হয়ে উঠতে পারে ভয়ংকর। বিকৃতি ও বিপর্যয়ের অজস্র আঘাতে ক্ষতবিক্ষত ও নিঃশেষিত হতে পারে সহস্র প্রাণ ।
উদ্দীপকেও আঠারো বছর বয়সের ভালো-মন্দ উভয় দিক তুলে ধরা হয়েছে। জগতে সমস্ত কিছুরই দুটি বিপরীত দিক রয়েছে। ভালো-মন্দ, হাসি-কান্না, জয়-পরাজয়, সুন্দর-কুৎসিত ইত্যাদি। আমরা যখন কোনো কিছু সম্পর্কে ধারণা পোষণ করি তখন তার ভালো-মন্দ দুটো দিক আমাদের বিচার করে দেখতে হয়। তারুণ্যের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যেগুলোকে আমরা মানবজীবনে শুভ ও মঙ্গলজনক বলে মনে করি। এসব দিককে আমরা বলতে পারি ইতিবাচক দিক। আবার তারুণ্যের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যা সমাজের জন্য ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। এরপরও সমাজ, জাতি ও দেশের কল্যাণে যা কিছু অর্জিত হয়েছে তার পেছনে আঠারো বছর বয়সের অবদান বিদ্যমান ।
উদ্দীপক ও 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার আলোকে বলা যায়, আঠারো বছর বয়সের যত মন্দ ও ত্রুটিপূর্ণ দিক থাকুক না কেন, জাতি ও দেশের জন্য এই বয়স তাৎপর্যময়। দেশ, জাতি ও মানবতার জন্য যুগে যুগে এ বয়সের মানুষই এগিয়ে গেছে সবচেয়ে বেশি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দাঁড়িয়েছে সমস্ত বিপদ মোকাবিলায়। প্রাণ দিয়েছে অজানাকে জানবার জন্য, দেশ ও জনগণের মুক্তি ও কল্যাণের সংগ্রামে। এই বয়সই জানে সুন্দর, শুভ ও কল্যাণের জন্য রক্তমূল্য দিতে। তাই বলা যায়, “তবু আঠারোর শুনেছি জয় ধ্বনি” পঙক্তিটির মাধ্যমে কবি আঠারো বছর বয়সের জয়গান গেয়েছেন ।