উদ্দীপকের বক্তব্য ও কবির প্রত্যাশা এক হওয়ায় "এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে"- কবির এই স্বপ্নই যেন রূপায়িত হয়েছে আলোচ্য উদ্দীপকে- মন্তব্যটি আমি স্বীকার করি।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি আঠারো বছর বয়সের বহু ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেছেন। কবি প্রার্থনা করেন, এসব বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন তরুণরা যেন জাতীয় জীবনে চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়ায়। এ বয়সি তরুণরা সবচেয়ে বেশি দুঃসাহসী হয়। তারা সবচেয়ে বেশি আঘাত সহ্য করতে পারে এবং তা প্রতিহত করতেও জানে।
উদ্দীপকে লেখক তারুণ্যকে অপরাজেয় ও নির্ভীক বলে উল্লেখ করেছেন। তরুণরা অদম্য দুঃসাহসে সকল বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করতে রক্তশপথ নিয়ে এগিয়ে যায়। ৫২-র ভাষা আন্দোলন, '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান' থেকে শুরু করে ২৪শের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন- সব ক্ষেত্রে তরুণরাই নেতৃত্ব দিয়েছে। 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার কবি এমনই তারুণ্যের প্রত্যাশা করেছেন বা স্বপ্ন দেখেছেন।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি দেখিয়েছেন, এই বয়সের তরুণরা জড় নিশ্চল প্রথাবদ্ধ জীবনকে পেছনে ফেলে নতুন জীবন রচনার স্বপ্ন, কল্যাণ ও সেবাব্রত, উদ্দীপনা, সাহসিকতা, চলার দুর্বার গতি ইত্যাদি ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে। তাই কবি প্রার্থনা করেন, এসব বৈশিষ্ট্য যেন জাতীয় জীবনে চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়ায়। উদ্দীপকের লেখকও বাঁক বদলের ইতিহাসে তারুণ্যকে অনিবার্য হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কেননা, তারুণ্যশক্তি বিভিন্ন আন্দোলনে ও গণঅভ্যুত্থানে রক্তশপথ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তাই বলা যায় যে, “এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।"- কবির এই স্বপ্নই যেন রূপায়িত হয়েছে আলোচ্য উদ্দীপকে।