উদ্দীপকটিতে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূলভাব সম্পূর্ণ প্রকাশ পেয়েছে বলে আমি মনে করি।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রকৃতি ও মানবমনের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে প্রকৃতির সৌন্দর্য মানবমনে উৎফুল্লতা সৃষ্টি করে। কিন্তু কবির মন প্রিয় স্বামী ও সাহিত্য সাধনার প্রেরণাদাতার মৃত্যুতে এতটাই শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে যে, প্রকৃতির সৌন্দর্য তার মনকে স্পর্শ করতে পারে না।
উদ্দীপকের প্রকৃতিপ্রেমিক ও ভ্রমণবিলাসী তামিম সাহেব প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশে-বিদেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন। কিন্তু একমাত্র কন্যার মৃত্যুতে তার মন এতটাই শোকাচ্ছন্ন, বেদনাভারাতুর হয়ে উঠেছে যে প্রকৃতির নয়নাভিরাম সৌন্দর্যও তার মনকে আকর্ষণ করে না। প্রিয়জন হারানোর বেদনায় আচ্ছন্ন থাকার কারণে প্রকৃতি এখন তার কাছে বিষাদময় হয়ে উঠেছে। প্রিয়জন হারানোর ফলে ব্যক্তিজীবন বিষাদময় হওয়ার এই দিকটিই 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূলভাব।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির মধ্যেও উদ্দীপকের তামিম সাহেবের মতো অভিব্যক্তি প্রকাশ পেয়েছে। প্রিয়জনকে হারানোর বেদনায় কবিমন এতটাই দুঃখভারাক্রান্ত যে তিনি চারপাশের জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনও তার মনে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। শোকাচ্ছন্ন কবির চারপাশের জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন ও উদাসীন হওয়ার বিষয়টি কবিতার মধ্যে মূলভাবে হিসেবে ফুটে উঠেছে, যা উদ্দীপকের মধ্যেও বিদ্যমান। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটিতে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূলভাব সম্পূর্ণ প্রকাশ পেয়েছে।