উদ্দীপকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার বিষাদময় রিক্ততার হাহাকার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার বসন্ত প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য কবিমনে আনন্দের শিহরন জাগাবে, তিনি তাকে ভাবে ছন্দে সুরে ভরিয়ে তুলবেন সেটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু কবিমন যদি কোনো কারণে শোকাচ্ছন্ন বা বেদনা ভারাতুর থাকে তবে তা কবির অন্তরকে স্পর্শ করতে পারবে না। কবির মন জুড়ে আছে শীতের রিক্ত ও বিষণ্ণ ছবি। তাঁর মন গভীরভাবে দুঃখ ভারাক্রান্ত। তাঁর কণ্ঠ নীরব। শীতের করুণ বিদায়কে কবি কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। আর তাই বসন্তও তাঁর মনে কোনো সাড়া জাগাতে পারছে না। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তাঁর প্রথম স্বামী তাঁর কাব্য সাধনার প্রেরণা-পুরুষ ছিলেন। তাঁরই আকস্মিক মৃত্যুতে কবির অন্তরে যে বিষণ্ণ বেদনার রিক্ততার সুর বেজে উঠেছে, তারই সুস্পষ্ট প্রভাব ও ইঙ্গিত এ কবিতায় বিধৃত হয়েছে। উদ্দীপকের কবিতাংশেও রয়েছে আকস্মিক বিচ্ছেদ-বেদনার করুণ হাহাকার।
কেননা, কবি তার ছেলের আকষ্মিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না। সে ছিল তাঁর জীবন- ছায়া, সে শুধু মায়াভরা স্মৃতি রেখে তাঁর জীবন থেকে চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেছে। তাঁর জীবন এখন ফাঁকা, তিনি এখন একাকী। সব সৌন্দর্যবোধ, সব কিছুর গুরুত্ব এখন ম্লান হয়ে গেছে। তাই অপরূপ প্রকৃতির রূপের প্রতি তাঁর কোনো আকর্ষণ নেই। কেননা, সমস্ত মন পড়ে আছে কেবল তাঁরই জন্য। কাজেই একথা বলা যায় যে, উদ্দীপকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার বিষণ্ণ বেদনার রিক্ততার সুর প্রকাশ পেয়েছে।