উদ্দীপকে বর্ণিত কবির মানসিক পরিস্থিতির সঙ্গে 'তাহারেই 'পড়ে মনে' কবিতার কবির মানসিক পরিস্থিতির তুলনা করা যায় উদাসীনতায় ও বিষণ্ণতায়।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির ব্যক্তিগত শোক ও দুঃখবোধের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁর প্রথম স্বামী ও কাব্যসাধনার প্রেরণা- পুরুষ সৈয়দ নেহাল হোসেনের মৃত্যুতে কবির জীবনে প্রচন্ড শূন্যতা নেমে আসে। প্রকৃতিতে বসন্ত এলেও তাঁর অন্তরজুড়ে শীতের রিক্ততা বিরাজ করে। তিনি কোনোমতেই তাঁকে ভুলতে পারেন না। তাঁর জীবন শীতের রিক্ত পরিবেশের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবির ব্যক্তিগত জীবনের বেদনাবোধের প্রকাশ ঘটেছে। তাঁর ভেতরে কোনো আনন্দ-আয়োজন নেই। সেখানে তাঁর আনন্দের সুরধ্বনি হয় না। বাঁশি বাজে না। তাঁর হৃদয়ে শান্তি নেই। শান্তির প্রতীক শুভ্রতাও নেই, হৃদয়ে আঁকাবাঁকা সাদা পাখির ঝাঁকও ওড়ে না। প্রকৃতিজগতে নির্বাক ঢেউ নিয়ে নির্বাক নদীর পাড় ভেঙ্গে পড়ে যেন তাঁর মনে। কবির এই বেদনাদীর্ণ মনের অবস্থা 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির মনের অবস্থার সঙ্গে এক সূত্রে গাঁথা। প্রিয়জনকে হারিয়ে তাঁর হৃদয় বেদনায় কাতর, তাঁর হৃদয়জুড়ে যেন সমস্ত শূন্যতা বিরাজ করছে। তিনি বসন্তের ফুলের সৌরভ অনুভব করতে পারেন না এবং তাঁর ভক্তকুলের বিনীত অনুরোধও রক্ষা করতে পারেন না। শীতের প্রকৃতি যেন বিরাজ করছে তাঁর জীবনে। এভাবে কবিতায় কবির ব্যক্তিগত জীবন ধরা পড়েছে। তাই বলা যায়, আনন্দহীন, বেদনাহত হওয়ার দিক থেকে তাদের মানসিক পরিস্থিতি পরস্পর তুলনীয়।