'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির মনোবেদনার প্রকৃতিঘনিষ্ঠ এক বর্ণনা রয়েছে, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
আলোচ্য কবিতাটিতে প্রকৃতি ও মানবমনের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তাৎপর্যময় অভিব্যক্তি পেয়েছে। বসন্তের আগমন কবিমনকে শিহরিত করার কথা থাকলেও তার শোক যেন তাঁকে প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে ।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, প্রিয়জনের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও তার স্মৃতি কখনো ভোলা যায় না। প্রিয়জন হারানোর বেদনায় মন সর্বদাই কাতর হয়ে থাকে। আবার, 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায়ও প্রিয়জন বিয়োগের দিকটি ফুটে উঠেছে। তবে এখানে কবির মনোবেদনা ও প্রকৃতির বিষণ্ণতা একসূত্রে গাঁথা।
বসন্ত-প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য যে, কবিমনে আনন্দের শিহরন জাগাবে এবং তিনি তাকে ভাবে ছন্দে-সুরে ফুটিয়ে তুলবেন—সেটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু আলোচ্য কবিতায় কবি স্বামীর মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন বলে বসন্ত তার সমস্ত সৌন্দর্য নিয়ে হাজির হওয়া সত্ত্বেও কবির অন্তরকে তা স্পর্শ করতে পারেনি। তাই বসন্তের মাঝেও উদাসীন কবির অন্তর জুড়ে থাকে রিক্ত শীতের করুণ বিদায়ের বেদনা। কবির জীবনের দুঃসহ বিষণ্ণতা প্রকৃতির সঙ্গে তাঁর মনের সংযোগকে ছিন্ন করেছে। এই যে কবির মনোবেদনার প্রকৃতিঘনিষ্ঠ রূপ তা উদ্দীপকে নেই। উদ্দীপকে রয়েছে বিরহ-বেদনার আবেগময় বহিঃপ্রকাশ, যেখানে প্রকৃতিঘনিষ্ঠতার দিকটি অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, “উদ্দীপকটির বিরহ-বেদনার বর্ণনার সঙ্গে তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির মনোবেদনার প্রকৃতিঘনিষ্ঠ যে বর্ণনা, তার সাথে মিলের চেয়ে অমিলই বেশি”— মন্তব্যটি যথার্থ।