শোকানুভূতির প্রগাঢ়তার দিক থেকে উদ্দীপকের রত্না আর 'তাহারেই পাড়ে মনে' কবিতার কবির কষ্ট একসূত্রে গাঁথা ! 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবিহৃদয়ের শোকানুভূতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তাই সময়ের আবর্তনে প্রকৃতিতে বসন্ত এলেও বিরহকাতর কবির কাছে আজ তা প্রকৃত অর্থেই মূল্যহীন। একদা পুষ্প, বৃক্ষ, পাখি তথা প্রকৃতির মহাসমারোহে কবির জীবন পূর্ণতা লাভ করলেও এখন তাঁর মনে কেবলই শূন্যতাবোধের হাহাকার।
উদ্দীপকের রত্নার স্বামী দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। পরে আবার বিয়ে করলেও রতনের স্মৃতি তাকে সর্বদাই তাড়িয়ে বেড়ায়। একইভাবে, আলোচ্য কবিতার কবির স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের মৃত্যুতে কবির জীবনও বিষাদময় রিক্ততায় ভরে ওঠে। হাহাকার নেমে আসে জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে। অর্থাৎ প্রিয়জন হারানোর বিরহ-বেদনা উভয়কেই ভারাক্রান্ত করে তোলে।
প্রিয়জনের মৃত্যু স্বভাবতই মানুষের হৃদয়কে শোকে কাতর করে তোলে । আর তা যদি হয় জীবনসঙ্গীর মৃত্যু তবে তা আরও বেশি বেদনাদায়ক হয়ে ওঠে । আলোচ্য কবিতার কবির স্বামী ছিলেন তাঁর সকল কাজের উৎসাহদাতা। এমন একজন জীবনসঙ্গী হারিয়ে কবি নিমজ্জিত হন সীমাহীন কষ্টের সাগরে। ফলে বসন্ত এলেও কবিমনে শিহরণ জাগে না বরং তাঁর হৃদয় জুড়ে শীতের রিক্ততা, অর্থাৎ স্বামী বিরহের বেদনাবিধুর অনুভূতিই সদা জাগরূক থাকে। এরকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে উদ্দীপকের রত্নার ক্ষেত্রেও। তাই প্রাণপ্রিয় স্বামীর মৃত্যুতে তার সুখময় জীবনের ছন্দপতন ঘটেছে। সে বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।