উদ্দীপকের কবিতাংশটিতে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূলসুর প্রতিফলিত হয়নি বলেই আমি মনে করি ।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির ব্যক্তিগত দুঃখবোধ তাঁর কবিমনকে আচ্ছন্ন করেছে। বেদনায় আবিষ্ট কবির কাছে তাই বসন্তের সৌন্দর্য ম্লান। প্রিয়জনের বিয়োগব্যথায় কবির হৃদয়ের দুঃসহ-স্মৃতিই তাঁর কাছে বসন্তের আগমনকে নিষ্প্রভ করে তুলেছে ।
উদ্দীপকের কবিতাংশে স্মৃতিতাড়িত কবির একান্ত অনুভূতির প্রতিফলন ঘটেছে। সেখানে কবি তাঁর শৈশবের সুখময় দিনগুলোর স্মৃতিমন্থন করেছেন। ঝাউশাখে বনলতা বেঁধে দোল খাওয়া, কাঁচা-পাকা কুল খাওয়ার আনন্দময় স্মৃতি দীর্ঘদিন পর কবিকে যেন মোহাবিষ্ট করে রাখে । এর মধ্য দিয়ে গ্রামীণ প্রকৃতির প্রতি কবির অকৃত্রিম মমত্ববোধ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু আলোচ্য কবিতাটির বিষয়বস্তু ভিন্ন ।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি স্বজন হারানো কবির ব্যথাতুর মনের অভিব্যক্তি। এ কবিতায় প্রিয়জনের বিয়োগব্যথা কবিমনকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে । তাই বসন্ত-প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যও কবিমনে রেখাপাত করতে পারে না। উদ্দীপকের কবিতাংশে ব্যক্তিগত জীবনের এমন দুঃখবোধের প্রতিফলন ঘটেনি। সেখানে কেবল কবির শৈশবের সুখময় সময়ের স্মৃতিচারণার দিকটিই স্থান পেয়েছে, যা 'আলোচ্য কবিতার থেকে আলাদা। এ বিবেচনায় উদ্দীপকের কবিতাংশটিতে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূলসুর প্রতিফলিত হয়নি ।