ব্যক্তিগত জীবনের সুখ-দুঃখ প্রকৃতির অনুষঙ্গে নিবিড়ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায়, যা উদ্দীপকের মূল সুরও বটে।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় বসন্ত ঋতুর আগমন উপলক্ষে কবি মনের অতীতচারিতার কষ্ট ফুটে উঠেছে। বসন্ত চির যৌবনের প্রতীক। সময়ের আবর্তনে প্রকৃতিতে বসন্ত এলেও বিরহকাতর কবিম্বয়ের কাছে আজ তা প্রকৃত অর্থেই মূল্যহীন। একদা পুষ্প, বৃক্ষ, পাখি তথা প্রকৃতির মহাসমারোহে কবিদ্বয়ের জীবন পূর্ণতা লাভ করলেও এখন তাঁদের মনে কেবলই শূন্যতাবোধের হাহাকার।
উদ্দীপকের কবিতাংশে বসন্তের আবেদন উপেক্ষিত থেকে গেছে। যদিও প্রকৃতির সর্বত্র বসন্তের চিত্ররূপময় প্রকাশ লক্ষিত হচ্ছে তথাপি প্রিয়জনের অনুপস্থিতিতে কবির হৃদয় আজ বিষণ্ণতায় পর্যবসিত হয়েছে। আর তাই ঋতুরাজ প্রকৃতিতে নবযৌবন নিয়ে আসলেও কবির অন্তরে তা প্রত্যাশিত দাগ কাটতে পারেনি। বসন্ত রাগের পরিবর্তে উদাসীন কবির মনে তাই বাজছে বিরহের সুর। এভাবে উদ্দীপকের কবির বিরহ-বেদনার এ দিকটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির অন্তর্যাতনাকেই যেন তুলে ধরেছে সর্বতোভাবে।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় উদ্দীপকের কবির অন্তর্গত বিষাদই ধ্বনিত হয়েছে। প্রকৃতির চিরায়ত নিয়মে বসন্ত তার পরিপূর্ণ বৈভব নিয়ে উপস্থিত হলেও কবি আজ বসন্ত-বিমুখ। কেননা কবির অন্তরে বিরাজমান শীতের রিক্ততার হাহাকারে ঢাকা পড়ে গেছে বসন্ত-প্রকৃতির সকল আয়োজন। আর তাই সৌন্দর্যের ডালা সাজিয়ে পদার্পণ করেও কবিমনকে তা আলোড়িত করতে পারেনি। কবিতার সর্বত্র ধ্বনিত হয়েছে বিয়োগ-বেদনার হাহাকার। এ হাহাকার ধ্বনি কবিতাটিকে যেমন ভিন্নতর ব্যঞ্জনা দিয়েছে উদ্দীপকের কবিতাংশেও তেমনি মুখ্য হয়ে উঠেছে প্রিয়জনকে কাছে না পাওয়ার যাতনা। আর এভাবেই বিষাদ- বেদনা প্রকাশের সূত্রে উদ্দীপক ও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার অন্তর্গত দীর্ঘশ্বাস মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। সে বিবেচনায় উদ্দীপকের মূল সুর 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার আলোকে যথার্থ।