"উদ্দীপকের সালমার মনের কষ্ট আর 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির হৃদয়ের রক্তক্ষরণ এক সূত্রে গাঁথা" আলোচ্য উক্তিটি যথার্থ। কেননা উভয়েই প্রিয়জনের বিয়োগব্যথায় কাতর হয়েছেন।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবি সুফিয়া কামালের স্বামীর আকস্মিক মৃত্যু হয়। ফলে কবির ব্যক্তিজীবনে ও কাব্যসাধনার ক্ষেত্রে নেমে আসে এক দুঃসহ বিষণ্ণতা।
উদ্দীপকের সালমার স্বামী জামিল হঠাৎ করে দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। পরবর্তীতে পুনরায় বিয়ে করলেও জামিলের স্মৃতি তাকে সর্বদাই তাড়িয়ে বেড়ায়। একইভাবে আলোচ্য কবিতার কবির স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের মৃত্যুতে কবির জীবনও বিষাদময় রিক্ততায় ভরে ওঠে। হাহাকার নেমে আসে জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে।
প্রিয়জনের মৃত্যু স্বভাবতই মানুষের হৃদয়কে শোকে কাতর করে তোলে। আর তা যদি হয় জীবনসঙ্গীর মৃত্যু তবে তা আরও বেশি কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে। সর্বদা তার অনুপস্থিতি হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করে তোলে। আলোচ্য কবিতার কবির স্বামী ছিলেন তাঁর সকল কাজের উৎসাহদাতা। এমন একজন জীবনসঙ্গী হারিয়ে কবি নিমজ্জিত হন সীমাহীন কষ্টের সাগরে। ফলে বসন্ত এলেও কবিমনে শিহরণ জাগে না বরং তার হৃদয়জুড়ে থাকে রিক্ত শীতের করুণ বিদায়ের বেদনা। এ রকম পরিস্থিতি হয়েছে উদ্দীপকের সালমার ক্ষেত্রেও। প্রাণপ্রিয় স্বামী জামিলের মৃত্যুতে তার সুখময় জীবনের ছন্দপতন ঘটেছে। স্বামী হারানোর প্রেক্ষাপটে বলা যায়, সালমার কষ্ট ও কবির হৃদয়ের রক্তক্ষরণ একই সূত্রে গাঁথা। অতএব, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।