পলাশির যুদ্ধে পরাজিত হতে থাকা নবাব সিরাজউদ্দৌলার যে মর্মবেদনা 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে উঠে এসেছে তা উদ্দীপকে সাদৃশ্যপূর্ণ দিক হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা পলাশির যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হন। এই যুদ্ধে তাঁর ভরসা ছিল মোহনলাল, মিরমর্দানের মতো অমাত্যদের দেশপ্রেম। দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্তের জন্য তাঁদের প্রতি সিরাজউদ্দৌলার সন্তানবাৎসল্য দেখা দেয়। কিন্তু তাঁর দরবারে ছিল টিপু মিরজাফর, রায়দুর্লভ, রাজবল্লভদের মতো বিশ্বাসঘাতকেরা। এই বিশ্বাসঘাতকদের জন্য সিরাজউদ্দৌলার সেনাবাহিনী পরাজিত হতে শুরু করে। ফলে যন্ত্রণায় দগ্ধ হন নবাব সিরাজউদ্দৌলা।
উদ্দীপকের সম্রাট সাজাহান যন্ত্রণায় ক্ষত-বিক্ষত হয়েছেন। তাঁর এই মর্মবেদনার কারণ এক পুত্র ঔরঙ্গজেবের হাতে অন্যান্য পুত্র দারা, সুজা ও মুরাদের মৃত্যু। এক সন্তানের হাতে অন্য সন্তানদের মৃত্যু সম্রাট সাজাহানের পিতৃহৃদয়কে বেদনাসিক্ত করে। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে মোহনলাল, মিরমর্দানদের মতো দেশপ্রেমিকের মৃত্যুতে সিরাজউদ্দৌলার ব্যক্তি হৃদয়ও হাহাকার করে ওঠে। অতএব বলা যায়, সন্তানবাৎসল্য ও বন্দিদশার দিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সাদৃশ্য রয়েছে।