উদ্দীপকে উল্লিখিত রাজাকার 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের পলাশির যুদ্ধের বিশ্বাসঘাতক চরিত্রগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার অধিকাংশ অমাত্য ও সেনাপতি অর্থ ও ক্ষমতার লোভে নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। মিরজাফর আলি খাঁ নিজে নবাব হওয়ার লোভে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন। তাঁর সঙ্গে হাত মেলান রাজা রাজবল্লভ, জগৎশেঠ, রায়দুর্লভ প্রমুখ। এমনকি নবাবের খালা ঘসেটি বেগমও নবাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং ষড়যন্ত্র সফল করার জন্য অর্থ ব্যয় করেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত রাজাকারেরা পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর সহচর হয়ে উঠেছিল। তাই ১৯৭১ সালে যখন বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ স্বাধীনতার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল, তখন তারা গণশত্রুর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল। নির্লজ্জের মতো দেশদ্রোহিতা করেছিল তারা। এরা ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে দেশবাসীকে বিপন্ন করে তুলেছিল। এই রাজাকার শ্রেণি ১৭৫৭ সালের পলাশির যুদ্ধের বিশ্বাসঘাতকদের স্বরূপকেই ফুটিয়ে তুলেছে। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত রাজাকারেরা 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মিরজাফরসহ সিরাজউদ্দৌলার বিশ্বাসঘাতক অমাত্যদের প্রতিনিধিত্ব করছে।