'ধূর্ত ও প্রতিজ্ঞা ভজাকারীরা চিরকালই শত্রু হয়; বন্ধু হয় না'- বক্তব্যটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ক্ষেত্রেও সত্য।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মিরজাফর, রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ, জগৎশেঠ, মিরনসহ আরো অনেকেই ছিল ধূর্ত এবং প্রতিজ্ঞা ভঙ্গকারী। তারা ক্ষমতা ও অর্থের লোভে নবাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এককথায় বলতে গেলে, অর্থ ও ক্ষমতার লোভে ইংরেজদের কাছে বাংলাকে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দেয় তারা।
উদ্দীপকের অমর ও সমর অন্তরঙ্গ বন্ধু। তারা প্রতিজ্ঞা করেছিল বিপদে কেউ কাউকে ছেড়ে যাবে না। কিন্তু বিপদাপন্ন অবস্থায় প্রতিজ্ঞা রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে অমর। সে বনের মধ্যে ভালুকের আক্রমণের মুখে সমরকে বিপদে ফেলে পালিয়ে যায়। কিন্তু সমর বন্ধুসুলভ আচরণে পিছ-পা হয়নি।
উদ্দীপকের অমর ও সমর প্রকারান্তরে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। সিরাজউদ্দৌলা তাঁর অমাত্যদের সঙ্গে নিয়ে কোরআন শরীফ ছুঁয়ে দেশকে রক্ষার প্রতিজ্ঞা করেন। অমাত্যরা বলেছিল, তাদের জীবন নবাবের কল্যাণে উৎসগীকৃত। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। কেননা, তারা ছিল ধূর্ত। তাই নবাবের সামনে প্রতিজ্ঞা করলেও মূলত তারা লোভের বশবর্তী হয়ে বিশ্বাসঘাতকতার পথ বেছে নেয়। তাই বাঙালি হয়েও তারা পলাশির যুদ্ধে বাংলার শত্রুপক্ষ অবলম্বন করে। অতএব 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও উদ্দীপকের বক্তব্যের সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়।